বিশেষ প্রতিনিধি- জাহারুল ইসলাম জীবন :
একটি সভ্য সমাজের মেরুদণ্ড কতটা ভেঙ্গে পড়লে, একটি রাষ্ট্রের বিচারিক কাঠামোর ভিত কতটা নড়বড়ে হলে, প্রতিনিয়ত নিষ্পাপ শিশুদের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের বিচারের আকুতি জানাতে হয়!?-"ঢাকা মিরপুরের ছোট্ট শিশু রামিসা কিংবা মাগুরার আছিয়া সহ সর্বকালের সকল মেয়ে শিশু ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাকান্ড"- এরা কেবল একেকটি নাম নয়, এরা আমাদের সমষ্টিগত বিবেক, আমাদের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা আর আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বাঁধা বিকৃত কামোদ্দীপক মানুষরূপী পশুর- পশুত্বের নির্মম বলির শিকারে পরিণত হবে আর কত কাল!?
দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে বাংলার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে নিষ্পাপ মেয়ে শিশু থেকে শুরু করে কোমলমতি ছেলে শিশুদের আর্তনাদে। যে হাতগুলোর আজ খাতা-কলম ছুঁয়ে থাকার কথা ছিল, যে অবুঝ চোখগুলোয় থাকার কথা ছিল আগামীর স্বপ্নমাখা ভবিষ্য, সেই হাত ও চোখগুলো আজ নিথর, রক্তাক্ত এবং বিকৃত লালসার শিকার হয়ে লাশের মিছিলের শামিল সারিতে মাটির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে- অনন্ত কালের গহব্বরে!- এর শেষ কোথায়?
***➤মুখোশধারী 'মানুষ রূপী পশুদের' অভয়ারণ্যে অবরুদ্ধ শৈশব:- সবচেয়ে বড় অ্যালার্মিং এবং হৃদয়ে শিহরন জাগানো বাস্তবতা হলো, এই নরপশুরা বাইরের কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী নয়। এরা লুকিয়ে আছে আমাদের চেনা গণ্ডির ভেতরে-ই। ধর্মীয় শিক্ষার পবিত্র আঙ্গিনা মাদ্রাসা ও তার আবাসিক হল থেকে শুরু করে-বাসার প্রাইভেট টিউটর, আধুনিক স্কুল, কলেজ কিংবা নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নামধারী কিছু বিকৃত মস্তিস্কের মানুষরূপী পশুর থাবায় আজ ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে শৈশব জীবনের কোমলমতি মেয়ে ও ছেলে শিশুরা!
পবিত্র শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের আড়ালে, কিংবা সাধারণ বিকৃত মানসিকতার চাদরে মুখ ঢেকে এই পশুরা কোমলমতি শিশুদের ওপর প্রতিনিয়ত চালাচ্ছে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ এবং বলাৎকার। এখানেই শেষ নয়, নিজেদের পাপ ঢাকতে ধর্ষণ-পরবর্তী যে বীভৎস ও অমানবিক কায়দায় শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, তা যেকোনো সুস্থ মানুষের রক্ত হিম করে দেওয়ার জন্য-ই যথেষ্ট। এই পৈশাচিক লালসার বলি হওয়া শিশুদের ক্ষতবিক্ষত লাশের সারি আজ রাষ্ট্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।
***➤আইনজীবীদের নজিরবিহীন প্রতিরোধ-ই পারে "আমরা আসামির পক্ষে লড়বো না":- রামিসা ও আছিয়া হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে্ দেশের বিবেকবান আইনজীবীদের পক্ষ থেকে যে বজ্রকণ্ঠ উচ্চারিত হয়েছে, তা সমসাময়িক বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও কঠিনতম দৃষ্টান্ত। আইনজীবীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন:
➤"রামিসা ও আছিয়া হত্যা মামলায় আমরা কোনো আইনজীবী আসামি পক্ষে আইনি লড়াই করব না। কোনো আইনি সহায়তা এই খুনি ও ধর্ষকেরা পাবে না। আমরা লড়বো রামিসার পক্ষে, রামিসার বাবার পক্ষে- যাতে এই পশুদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত হয় প্রকাশ্যে।"
➤আইনজীবী সমাজের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে, আজ সকলের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। যখন অপরাধের মাত্রা চর্তুদিকে বিষবাষ্পের মতো ছড়িয়ে পড়ে, তখন প্রথাগত আইনি কাঠামোর ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ একঘরে ও আইনি সুরক্ষাহীন করা আজ সুস্থ্য বিবেকবান মানুষের কাছে সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
➤বিচার প্রশাসন ঢেলে সাজানোর দাবিতে সকলেই আজ সোচ্চার "হত্যার বদলে প্রকাশ্যে হত্যা":- আইন কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে অপরাধীদের মনে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয় না। বর্তমানের এই কঠিন ও কঠোর বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচার প্রশাসন সহ মানবাধিকার নামক সংস্থা গুলোকে আমূল ঢেলে সাজানো এখন আর অনুরোধ নয়, বরং বাঁচা-মরার দাবি।
***➤আইনের ধারা সংশোধন এখন সময়ের দাবী:- ব্রিটিশ আমলের বা সনাতন আইনি ধারার মারপ্যাঁচে যেন কোনো শিশু হত্যাকারী ও ধর্ষণকারী পার না পেয়ে যায়, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে বিচারিক আইনের ধারা সমূহ জরুরী ভিত্তিতে সংশোধন করতে হবে।
***➤ধর্ষকদের সকল প্রকার আইনি সহায়তা বয়কট্ করতে হবে:- আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনজীবীদের একযোগে শপথ নিতে হবে-এই ধরনের জঘন্যতম অপরাধীদের কোনো প্রকার অনুকম্পা, লজিস্টিক বা আইনি সুবিধা দেওয়া যাবে না।
***➤প্রকাশ্যে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান চালু করণ:- এই সকল ধর্ষক নামক পশুদের জন্য এমন কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করতে হবে, যা দেখে অপরাধীদের অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে প্রতিনিয়ত। প্রয়োজনে রাজপথে প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো কঠোরতম আইন নিয়ে আসতে হবে। হত্যার বদলে প্রকাশ্যে হত্যার এই বিধান-ই পারে সমাজের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা অন্য- মস্তিষ্ক বিকৃত বেগার কামাতুর পশুদের মনে তীব্র ভয়ের সঞ্চার করতে।
***➤সর্বশেষ কথায় রামিসা-য় হোক ধর্ষিতা পরবর্তী হত্যার শেষ রক্তাক্তের অধ্যায়:- এমন হাজারো রামিসা ও আছিয়াদের এই মর্মান্তিক পরিণতি থেকে যেন দেশের সব শিশু ধর্ষণকারী ও শিশু হত্যাকারীরা চূড়ান্ত শিক্ষা নেয়। বাংলাদেশের প্রতিটি বাবাকে আজ আশ্বস্ত করার সময় এসেছে যে, তাঁদের সন্তানরা এই দেশে নিরাপদ।
বিচার ব্যবস্থার দ্রুততম প্রয়োগ এবং অপরাধীর করুণ ও ভয়ানক পরিণতি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই বিভৎসতার অবসান সম্ভব। আসুন, আর কোনো শিশুর রক্তাক্ত লাশের অপেক্ষা না করে, এই বিকৃত মানসিকতার নরপশুদের মুখোশ টেনে হিঁচড়ে খুলে ফেলি এবং এদের চিরতরে সমাজ ও পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করতে একতাবদ্ধ হই। আজকের প্রক্ষাপটে্ রামিসার রক্ত যেন বৃথা না যায়- এটাই হোক আজ সমগ্র বাংলাদেশের একমাত্র সুস্থ্য বিবেকের একমাত্র দৃঢ়তার সংকল্পিত অঙ্গীকার।
আরওপড়ুন..... লাখাইয়ে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে সরকার কৃষি বান্ধব তাই নদী ও খাল খননের, কৃষকদের কৃষি কাজে উন্নয়ন করছে
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com