মোঃ বাদশা প্রামানিক নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার রাসহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ আট বছর ধরে চলছে চরম জলাবদ্ধতা। মাঠ ভরাট না করা এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বছরের অধিকাংশ সময় স্কুল প্রাঙ্গণ থাকে পানির নিচে। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, বাড়ছে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠটি একটি জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। মাঠের চারপাশে বসতবাড়ি ও কাঁচা রাস্তা থাকায় পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়, যা বর্ষাকালে হাঁটু সমান উচ্চতায় পৌঁছায়। তিন মাস ধরে জমে থাকা পানি এখন বিদ্যালয়ের সিঁড়ি ছুঁই ছুঁই করছে।
সহকারী শিক্ষিকা তানজিলা আফরিন বলেন, ‘স্কুল মাঠটি আশপাশের এলাকা থেকে নিচু হওয়ায় পানি গড়িয়ে এখানেই জমা হয়। দীর্ঘ আট বছর ধরে আমরা এই অসহনীয় ভোগান্তি পোহাচ্ছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো জায়গাই পাওয়া যাচ্ছে না। এই নোংরা পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসা শিক্ষকদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জাহানারা বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় তা দূষিত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ছাত্রীরা ও নারী শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে এই নোংরা পানি পাড়ি দিয়ে স্কুলে আসায় তাদের পোশাক ভিজে যাচ্ছে, যা অস্বস্তিকর। অনেক শিক্ষার্থী চর্মরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। এই পরিস্থিতির কারণে অভিভাবকরাও সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে অনাগ্রহী।’ তিনি আরও জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরকে কয়েকবার অবহিত করা হলেও মাঠ ভরাট বা পানি নিষ্কাশনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের স্থানীয় অভিভাবক দুলাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটিতে আমার সন্তানরাও পড়ছে। কিন্তু মাঠের এমন দশা দেখলে মনে হয়, শীঘ্রই স্কুলটি ছাত্রশূন্য হয়ে পড়বে। পড়ালেখা করতে এসে শিশুরা অসুস্থ হয়ে ফিরছে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
এ বিষয়ে নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোরশেদ মনি জানান, তিনি ২০২৩ সালে পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে কেউ পানি যাওয়ার জায়গা দিতে রাজি হননি।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্র নাথ রায় জানান, প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর মাঠ ভরাটের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সবশেষে, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে ছিল না। তবে রাসহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই করুণ দশার কথা যেহেতু জানলাম, তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও মাঠ ভরাট করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আরওপড়ুন...... মাদকের অপবাদে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দুই দফা হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ; আহত ১৫
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com