মোঃ বাদশা প্রামানিক, নীলফামারী প্রতিনিধি :
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা জলাধার খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খনন কাজকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানিতে আনসার ক্যাম্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংবাদিক ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
জানা যায়, বুড়ি তিস্তা নদীর জলাধার খনন প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যারেজ সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত আনসার ক্যাম্পে মজুদ করে পাউবো। এসব সরঞ্জামের নিরাপত্তায় সেখানে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী সময়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে গেলে স্বার্থান্বেষী মহলের বাধায় দুটি এক্সকাভেটর (ভেকু) পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় খনন কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বুধবার সকাল থেকেই প্রকল্পবিরোধী একটি গোষ্ঠী মাইকিং করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ লোকজন জড়ো করতে থাকে। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ এড়াতে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থানীয় ১০ জন প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিকেলে প্রশাসন ও পাউবো মাইকিং করে খনন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে এবং আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে সবাইকে ঘটনাস্থল ত্যাগের আহ্বান জানায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাউবো কর্মকর্তারা এলাকা ত্যাগ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যার আগে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত কয়েকশ মানুষ আনসার ক্যাম্পে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ক্যাম্পে থাকা মালামাল লুটপাট করে এবং খনন কাজে ব্যবহৃত ৭টি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করে। এ সময় আনসার সদস্যদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, রেশন সামগ্রীসহ আনসার ক্যাম্পে সংরক্ষিত এসটিজি গানের ১০ রাউন্ড গুলি লুট করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা চেষ্টা চালালেও একপর্যায়ে পিছু হটতে বাধ্য হন।
হামলার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে দুইজন সংবাদকর্মী হামলাকারীদের রোষানলে পড়েন। তাদের মারধর করে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া সড়কে চলাচলরত সাধারণ পথচারীরাও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান, রাষ্ট্রীয় সম্পদে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com