মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় মাদকদ্রব্যের বেচাকেনা ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বাগানের নতুন টিলার ‘বুলেট’ এলাকা, উড়িষ্যা লাইন ও তেলিয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় মাদকের কয়েকটি আস্তানা গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন টিলার ‘বুলেট’ এলাকায় চন্দ্র গোয়ালা নামে এক ব্যক্তি ভারতীয় স্কাফ সিরাপসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাদক বিক্রির কাজে তরুণদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অন্যদিকে, তেলিয়াপাড়া চা বাগানের উড়িষ্যা লাইনে তরুণ পান তাঁতির বাড়িতে ফেনসিডিল, স্কাফ সিরাপসহ বিভিন্ন ভারতীয় মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বাগানের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে সহজেই মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে তেলিয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশন বাজার এলাকায় মাদক কেনাবেচা বা সেবনের কোনো আস্তানা ছিল না। তবে সম্প্রতি স্টেশনের পূর্ব পাশে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের একটি আস্তানা গড়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহী থেকে আসা রফিক মিয়া নামে এক ব্যক্তি তেলিয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব পাশে বাড়ি করে সেখানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের আসর বসিয়েছেন। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় বসবাস করে মাদক ব্যবসা করতেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। একপর্যায়ে ওই এলাকার যুবসমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি বেড়ে গেলে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে তাকে এলাকা ছাড়তে হয় বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রতিদিন আশপাশের এলাকা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত কিশোর ও যুবক মোটরসাইকেলে করে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে আসেন। তারা ফেনসিডিল, স্কাফ সিরাপ ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতায় তেলিয়াপাড়া চা বাগানের সামাজিক পরিবেশ ও উঠতি বয়সী তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তারা দ্রুত বাগানের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আরওপড়ুন.......আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোঃ আল আমিন ইসলাম।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com