
মাধবপুর সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় অবস্থিত গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভুট্টা পচিয়ে স্টার্চ উৎপাদনকারী এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি তরল বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন না করে পরিবেশে নিঃসরণ করছে। এছাড়া কারখানার এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের কৃষিজমি, খাল-বিল ও জলাশয় দূষিত হচ্ছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন ও প্রাণিসম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধে রতনপুর-ছাতিয়াইন আঞ্চলিক সড়কে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেকের শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা, বমিভাবসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়রা জানান, এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। অতীতে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে দূষণের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার পাশের ড্রেনে কালো রঙের বর্জ্য পানি জমে রয়েছে, যা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। একই সময়ে কারখানা থেকে ট্রাকযোগে পশুখাদ্য পরিবহনের সময় দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানায় ইটিপি থাকলেও সেটি নিয়মিত চালু রাখা হয় না অথবা উৎপাদিত বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশোধন করা হয় না।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দূষণের কারণে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। দূষিত পানি পান করে গবাদিপশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি আশপাশের খাল ও জলাশয়ে মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
কারখানার অদূরে অবস্থিত ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিদিন ওই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। তাদের অভিযোগ, তীব্র দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টসসহ জেলার কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ইটিপির কার্যকারিতা যাচাই, নিরপেক্ষ তদন্ত, পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ বিষয়ে গ্লোরী এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপপরিচালক ড. ইউসুফ আলী ভুঁইয়ার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আরওপড়ুন.........লাখাই উপজেলার করাব ইউনিয়ন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যান ফ্রন্টের কমিটি গঠন
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com