
স্টাফ রিপোর্টার :
মাধবপুর পৌর এলাকায় নদীর পাড় এবং সংলগ্ন রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। নিয়মিত বর্জ্য ফেলা, রাস্তার ভাঙাচোরা ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
নদীর পাড়ঘেঁষা রাস্তায় বড় বড় গর্ত, কাদামাটি ও ভাঙাচোরা অংশ প্রতিনিয়ত চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।

পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে নদীর তীরবর্তী স্থানে নিয়মিত আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। আবর্জনার মধ্যে পলিথিন, প্লাস্টিক বোতল, খাদ্যবর্জ্য ও কাঁচাবাজারের উচ্ছিষ্ট রয়েছে।
বর্জ্যের ফলে নদীর পানি দূষিত হয়েছে। আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। পাড়ের গাছপালাও শুকিয়ে যাচ্ছে।

রমিজ উদ্দিন দোকানদার "আমার দোকান নদীর পাশেই। দুর্গন্ধের জন্য বসে থাকা যায় না। রাস্তায় গর্ত হয়ে গেছে, ক্রেতাও কমে গেছে।"
শারমিন আক্তার শিক্ষার্থী "প্রতিদিন স্কুলে যেতে গিয়ে কাদায় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয়।"
১. ময়লা-আবর্জনার স্তূপ:
নদীর পাড়ঘেঁষা রাস্তায় নিয়মিতভাবে বাসাবাড়ির আবর্জনা, প্লাস্টিক সামগ্রী, খাবারের উচ্ছিষ্ট, এবং শিল্পবর্জ্য ফেলা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো ময়লার ডাস্টবিন না থাকায় এলাকাবাসী নদীর পাড়কেই আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে।
২. রাস্তাঘাটের ভাঙ্গাচোরা অবস্থা:
নদীর পাড়ের বেশিরভাগ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন রয়েছে। এতে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ, যা বর্ষাকালে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হয়।
৩. পানি ও মাটি দূষণ:
নদীতে নিয়মিতভাবে পলিথিন, রাসায়নিক পদার্থ ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার ফলে পানির রঙ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয়েছে। মাছ ও জলজ প্রাণীর জীবনচক্র ব্যাহত হচ্ছে, নদীর পাড়ের গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব।
দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়া।
রাস্তার ভাঙ্গাচোরা অবস্থার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি।
নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া।
১. নদীর পাড়ে আবর্জনা ফেলার স্থানে নজরদারি ও নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার বিন স্থাপন।
২. ভাঙাচোরা রাস্তা দ্রুত সংস্কার এবং বর্ষাকালের আগে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৩. স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে স্কুল, মসজিদ ও বাজারে প্রচারপত্র বিতরণ।
৪. পরিবেশ কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা।
৫. পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মনিটরিং ও জরিমানা ব্যবস্থা জোরদার।
পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। পৌর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনগণ এবং পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিদের সমন্বিত প্রচেষ্টায়ই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দৈনিক ক্রাইমসিন কে বলেন
আমরা গুমুটিয়া শিবপুরের কাছে একটি ডাম্পিং স্টেশন চালু করেছি, যার মাধ্যমে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা রোধ করে পৌরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ পরিবেশ উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। এছাড়া সোনাই নদীর পাড়ঘেঁষে একটি দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অতি শীঘ্রই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
এছাড়া বাজার এলাকার ভিতরে থাকা লাইসেন্সধারী মদের দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, এক মাসের মধ্যেই এসব সরিয়ে নেওয়া হবে।
পাশাপাশি আমরা পরিবেশ সংরক্ষণ ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছি। মনে রাখতে হবে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমি স্থানীয় জনগণের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি—কেউ যেন নদীর পাড়ে ময়লা না ফেলে এবং এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি পরিষ্কার, সবুজ ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলি।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com