আশীষ দাশ গুপ্ত লাখাই প্রতিনিধি।।
হবিগঞ্জের জেলার লাখাই উপজেলার শেষ প্রান্তে লাখাই ১ নং ইউনিয়নে মিনি কক্সবাজার নামে পরিচিত চিকনপুর ব্রিজ থেকে লাখাই বাজার পর্যন্ত বর্ষার আগমনে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়। বামৈ থেকে লাখাই বাজার পর্যন্ত ৬ দশমিক বিষ কিলোমিটার রাস্তার কারণে বর্ষার পাঁচ মাস ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, জৈষ্ঠ আষাঢ় মাসে লাখাই চিকনপুরের ব্রীজ থেকে লাখাই বাজার পর্যন্ত পানি কম থাকায় হবিগঞ্জ জেলা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ভিড় করে মিনি কক্সবাজার হিসেবে পরিচিত, বর্ষা কালে বিকেলের ঢেউয়ের পানিতে গোসল, হই হুল্লোড়, ঢেউয়ের সাথে তাল মিলিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে আনন্দ উল্লাস ও উম্মাদনায় মেতে ওঠে নানা বয়সের পর্যটকরা। বিকালের দক্ষিণের মৃদু বাতাস, কখনো মেঘ, কখনো বৃষ্টি। ব্রিজ থেকে লাগাই বাজার পর্যন্ত রাস্তার মাঝেমধ্যে শুকনা মাঝেমধ্যে পানি এই রাস্তা দিয়ে সিএনজি অটো রিক্সা প্রাইভেট কার নিয়ে আসে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত পর্যটকরা, রাস্তার দক্ষিণ দিকে বর্ষার পানির সঙ্গে একের পর এক ঢেউ রাস্তায় এসে আঁছড়ে পরছে। আর আকাশের কালো মেঘের ঘনঘটা জানান দিচ্ছে বর্ষার আগমনের বার্তা। সূর্য হস্তের সময় প্রকৃতির এক সৌন্দর্যের দৃশ্যের চোখে পড়ার মতো । এরই মধ্যে এলাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে লাখাই উপজেলার একমাত্র সম্ভাবনাময় পর্যটক কেন্দ্র লাখাই চিকনপুর ব্রীজ থেকে লাখাই বাজার পর্যন্ত । তবে বর্ষার আগমনের পর থেকেই এখানে পর্যটকের আগমন বেড়ে গেছে। এ যেন প্রকৃতি আর পর্যটকের নীবিড় সেতুবন্ধন। তাদের কাছে বর্ষার মৌসুমে আলাদা এক অনুভূতি। বর্ষায় হাওরের পানির ছোট ছোট ঢেউয়ে পর্যটকদের গোসল ও সাতার কাটতে উপচে পড়ে। বর্ষাকালে সাতার কাটা, ফুটবল নিয়ে পানিতে খেলা, ঢেউয়ের সাথে গাঁ ভাসিয়ে দিয়ে পানিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে পর্যটকরা। এমন ছন্দময় সময়কে স্বরণীয় করে রাখতে অনেকেই ফটোগ্রাফার দিয়ে ছবি তুলছে। কেউ কেউ ব্রিজের উপরে শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে, হাওরের পানি ঢেউ ও প্রকৃতি উপভোগ করছে। আবার কেউ ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাওরের পানিতে। বর্ষার পানি আসলেই পর্যটকদের ব্যাপক চাপ বেড়ে যায়। জুন থেকে শুরুতে লাখাই ইউনিয়নের ছাত্র যুবক জনতা ও আলেমদের উদ্যোগে লাখাই ১ নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আরিফ আহমেদ রুপোনের সভাপতিত্বে আডোবা রাস্তার দাবীতে মানববন্ধন করা হয়, এ সময় বক্তারা বলেন বামৈ টু লাখাই আডেবা রাস্তা হলে এখানে হবে একটি পর্যটক কেন্দ্র। এই পর্যটক কেন্দ্র বর্তমানে এক মাস বিনোদন ও আনন্দ পায় রাস্তাটি আডোবা হলে ছয় মাস বিনোদন আনন্দ করতে পাড়বে।
চিকনপুরের ব্রীজে ঘুরতে আসা অলিপুরের পলাশ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি ওলীপুর আরএফএল কোম্পানিতে জব করি আজ বন্ধের দিন হওয়ায় এখানে ঘুরতে আসছি, আমার বাড়ী রংপুরে স্থানীয় বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারলাম লাখাইয়ের চিকনপুরের ব্রীজ নাকি মিনি কক্সবাজার হিসেবে পরিচিত,তাই দেখার জন্য বন্ধুদেরকে নিয়ে ঘুরতে আসলাম।চিকনপুরের ব্রীজে সংলগ্ন এলাকায় সাঁতার কাটতে আসা লাখাই স্বজনগ্রামের বাসিন্দা আব্দাল মিয়া বলেন, বর্ষার আগমনে বিকাল হলেই সাঁতার কাটার সরঞ্জাম নিয়ে এখানে চলে আসি, এখানে শুধু লাখাই নয় বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক চলে আসে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য, আমরা সকলে মিলে আনন্দ উল্লাস করি। একটু দুরে দেখা যায় এক কোমলমতি কন্যা শিশু বাবার হাত ধরে হাটছে মনের আনন্দে,আর সারা শরীর কাদাভরা জ্বলে ভিজছে,তার অনুুভুতি জানতে চাইলে মিষ্টি মেয়েটি বলে আমি তাবাস্সুম আমি প্রতিদিন বিকালে এখানে বাবার সাথে ঘুরতে আসি,তাদের বাড়ী জানতে চাইলে তাবাস্সুমের বাবা বলেন আমি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করি আমার বাড়ী ঢাকা গাজীপুরে,আমি দীর্ঘদিন ধরে লাখাইয়ে আছি, বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিকেল হলে এখানে ঘুরতে আসি, এখানে ঘুরতে আসলে মনে হয় আমি কক্সবাজারেই আছি। এ ভাবেই বামৈর পশ্চিম দিক থেকে চিকনপুরের ব্রীজ পর্যন্ত, বিকাল হলে উৎসব মুখোর পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com