
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম নাঈমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছেন জেলা দায়রা জজ আদালত।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে এই আলোচিত মামলার রায় দেন দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল। মৃত্যুদন্ড প্রাপ্রাপ্তরা হলেন মো. নুরুল ইসলাম, মো: সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি, আনোয়ার হোসেন। এর মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া গ্রামে চেরাগ মিয়ার বাসায় ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদা নিতে আসামী নুরুল ইসলাম ও অন্যান্য আসামীরা প্রবেশ করে নিহত নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও মা শামসুন নাহারকে গালাগালি ও মারধর শুরু করেন। নাঈম ঘটনা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে আসামীরা। নাঈমকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার দু’দিন পর ৯ নভেম্বর নিহত নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ শুনানী শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৮৯৮ এর ৩৬৮(১) ধারার বিধানমতে মৃত্যু দন্ডাদেশ প্রাপ্ত চার আসামীকে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করার নির্দেশ প্রদান করেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক। মামলার হাজতী আসামী মোঃ নুরুল ইসলাম, পিতা-মোঃ ইদ্রিস মিয়া, মোঃ সাইমন ইসলাম, পিতা-আব্দুল আজিজ। পলাতক আসামিরা হলেন, নাহিদুল ইসলাম রনি, পিতা-মো: নুরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, পিতা-আব্দুল কাদির, আসামীদের ঠিকানা-বর্ষিজোড়া, চাঁদনীঘাট ইউপি, থানা ও জেলা-মৌলভীবাজার।
সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ জনকে মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়। তারা হলেন- আসামী ইমন মিয়া (পলাতক), পিতা-মো. ইদন মিয়া, ঠিকানা-বর্ষিজোড়া, চাঁদনীঘাট ইউপি, থানা ও জেলা-মৌলভীবাজার। আল আমিন, পিতা-সাহিদ মিয়া, ঠিকানা-আগনসী, নাজিরাবাদ ইউপি, সাকির আহমদ শাকিল, পিতা-মো. রমিজ মিয়া, পারভীন বেগম, স্বামী-মো. নুরুল ইসলাম, রুখসানা আক্তার জেসি, পিতা-মো. নুরুল ইসলাম, ঠিকানা-বর্ষিজোড়া, চাঁদনীঘাট ইউপি, থানা ও জেলা-মৌলভীবাজার।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন প্রকৃত আসামীদের দন্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে অপরাধ করে আইনী সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায়না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
কলেজ ছাত্র নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও স্বজনরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। এই রায় দ্রুত কার্যকরে প্রত্যাশা ও পলাতক আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী করেন তারা।
এদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট ফনিলাল ধর ও স্বজনারা জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
আরওপড়ুন....... মাধবপুর পৌরসভায় ১৭শ গাছ লাগাতে ব্যয় ২০ লাখ টাকা, গাছের হদিস নেই
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com