মাহমুদুল হাসান শুভ কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
ভালোবাসা, বিশ্বাস আর সুখের সংসারের স্বপ্ন নিয়েই বিয়ের পর স্বামী মিরাজুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান তানিয়া। জীবিকার তাগিদে দুজনেই একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। সংসারের স্বচ্ছলতা ও স্বামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় নিজের জমানো অর্থ ব্যয় করে মিরাজুলকে মালয়েশিয়ায় পাঠান তানিয়া।
অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে যাওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর স্ত্রী ও দুই সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেননি মিরাজুল। এ সময় তানিয়া চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। পরিবারের সহযোগিতা ও গ্রামের মানুষের সহায়তায় কোনোমতে সন্তানদের নিয়ে জীবনযাপন করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মিরাজুলের আপন ভাই বকুলের স্ত্রী জেমির সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং অসুস্থ বাবার কথা বিবেচনা করে দীর্ঘদিন সবকিছু নীরবে সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন তানিয়া।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তানের কাছে না গিয়ে মায়ের বাড়িতে ওঠেন মিরাজুল। এরপর তিনি তানিয়াকে তালাকের নোটিশ পাঠান বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে নিজের সংসার রক্ষার আশায় স্বামীর বাড়িতে অবস্থান নেন তানিয়া। তবে অভিযোগ রয়েছে, তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিতে নতুন কৌশল হিসেবে তার বিরুদ্ধে চুরি ও লুটপাটের একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।
হয়রানির শিকার হয়ে তানিয়া দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবিতে আদালতের শরণাপন্ন হন। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় চৌকিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা হাজী আব্দুল জলিল বলেন, "তানিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।"
একই গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি হাজী লাহেদ আলী জানান, "মিরাজুল ও জেমির সম্পর্ক নিয়ে এর আগেও গ্রামে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। আমরা তাদের ওই সম্পর্ক থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেছি। এখন শুনছি, মিরাজুল তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।"
এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন আগে কয়েকজন ব্যক্তি ও নারী সদস্য তানিয়াকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আরওপড়ুন.......স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবেন না, জানালেন ইসি সচিব
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com