মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট–মাধবপুর) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। এই আসনকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কয়েকজন পীর সাহেবের অস্বাভাবিক তৎপরতা স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর পক্ষে শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার পীর মোস্তাক আহমেদ ওরফে কবিরাজ মোস্তাক, পীর শরীফুল আজিজ ওরফে কবিরাজ শরিফুল, পীর সৈয়দ জিয়াউল কামাল জাকারিয়া এবং পীর সৈয়দ আবু বক্কর সিদ্দিক সাহেবসহ আরও কয়েকজন পীর। অভিযোগ রয়েছে, ‘সুন্নিয়তের বিজয়’ নিশ্চিত করার নামে তারা নানা কৌশলে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
একাধিক মুরিদ অভিযোগ করে জানান, পীরদের নির্দেশে মোমবাতি প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য তাদের ওপর একপ্রকার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মুরিদ বলেন, “আমরা পীর ধরেছি আখিরাতের পথে সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়ার আশায়। কিন্তু নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে—এটা কখনো ভাবিনি।”
তারা আরও জানান, পীরের নির্দেশ অমান্য করলে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা হওয়ার আশঙ্কা অনেকের মধ্যেই কাজ করছে। ফলে বহু মুরিদ চরম দ্বিধা ও মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে—কয়েকজন মুরিদ প্রকাশ্যেই এসব নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে নির্বাচনী মাঠে কিছু পীর সাহেবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। এ প্রসঙ্গে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নাসিরনগর উপজেলার খান্দুরা দরবার শরীফের পীর সাহেব সৈয়দ জুবায়ের কামাল এক নির্বাচনী পথসভায় বলেন,
“ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে যখন সুন্নি সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন, তখন সুন্নিয়তের এই তথাকথিত দরদ কোথায় ছিল? নিজের এলাকায় সুন্নিয়তের কোনো তৎপরতা নেই, অথচ অন্য আসনে এসে নিজেদের খাঁটি সুন্নি দাবি করে তৎপর হওয়া প্রশ্নবিদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “হবিগঞ্জ-৪ আসনে সৈয়দ মোঃ ফয়সলই প্রকৃত সুন্নি। তাঁর বিরোধিতা করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। উপরন্তু, তিনি বিএনপির রক্তে গড়া, পরীক্ষিত ও ত্যাগী সৈনিক।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মাঠে ধর্মীয় আবেগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা শুধু ভোটারদের বিভ্রান্তই করছে না, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে হবিগঞ্জ-৪ আসনকে ঘিরে ধর্ম, রাজনীতি ও নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকজন পীর সাহেবের এই সক্রিয়তা। এখন দেখার বিষয়—শেষ পর্যন্ত ভোটাররা আবেগ নয়, বিবেককে প্রাধান্য দেন কি না।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কচুয়া দরবার শরীফের পীর ও কবিরাজ মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করে বলেন, “আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি। আমার দায়িত্ব ও দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে মোমবাতি প্রতীকের পক্ষে কাজ করছি। হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোমবাতি প্রতীকের তাহেরির নিশ্চিত জয় হবে।”
খান্দুরা দরবার শরীফের পীর সৈয়দ জাকারিয়া সাহেব, দাতমন্ডল দরবার শরীফের শরিফুল আজিজ এবং ফান্দাউক দরবার শরীফের পীর সৈয়দ আবু বক্কর সিদ্দিক সাহেবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জ-৪ আসনের সচেতন ভোটাররা ‘সুন্নি জোট’ কিংবা ‘পীর জোট’কে আমলে নিচ্ছেন না। সচেতন মহলের একটি বড় অংশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—যিনি দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন, তাকেই ভোট দিয়ে এমপি বানাতে চান তারা। ভোটারদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই ব্যক্তি হলেন ধানের শীষের কাণ্ডারি সৈয়দ মোঃ ফয়সল।
আরওপড়ুন ....হবিগঞ্জ-১ আসনে হেভিওয়েটদের ভিড়ে ‘চেয়ার’ প্রতীকে চমক দেখাতে পারেন বদরুর রেজা
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com