আশীষ দাশ গুপ্ত লাখাই প্রতিনিধি ॥
জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আলহাজ্ব জি কে গউছের নিরলস প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে বহুল প্রত্যাশিত লাখাই-হবিগঞ্জসরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের হবিগঞ্জ লাখাই অংশ চার লেনে উন্নীত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৬১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বলভদ্র ব্রীজ থেকে হবিগঞ্জ কোর্ট স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে মোট ৬১৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক নির্মাণে ৩৯৬ কোটি টাকা, ভূমি অধিগ্রহণে ২১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইন স্থানান্তরে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। চারটি পৃথক প্যাকেজে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
অতীতে এ সড়ক সম্প্রসারণের জন্য টেন্ডার আহ্বান ও ঠিকাদার নির্বাচন করা হলেও নানা জটিলতায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের উন্নয়ন অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। এ অবস্থায় স্থানীয় লাখাই উপজেলার
জনগণ মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন এবং সড়কটি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
বিএনপি সরকার এ বিষয়টি সর্বোচ্চ * গুরুত্ব দিয়ে গত ১২ এপ্রিল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে ডিও লেটার প্রদান করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ। ডিও লেটারে তিনি সড়কটির গুরুত্ব তুলে ধরে উল্লেখ করেন, সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। এ সড়ক ব্যবহার করলে হবিগঞ্জসহ বৃহত্তর সিলেট এলাকার মানুষের যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে সড়কটির প্রন্থ মাত্র সাড়ে ৫ মিটার হওয়ায় যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না। এক সড়কটি ১০ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্তাবকরণসহ উন্নয়ন করা হলে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে, কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়ন হবে এ অঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া হবিগঞ্জ সফরকালে তিনি বলেছিলেন বিএনপি সরকার গঠন করলে এ সড়কটি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আলহাজ্ব জি কে গউছ দেশনেত্রীর দেয়া ঘোষণা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। জনগণ তার প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখে আলহাজ্ব জি কে গউছকে লাখ ভোটের ব্যবধানে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত করেছেন। একাধিক সূত্র জানায়, প্রকল্পটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের হুইপ * আলহাজ্ব জি কে গউছ *এমপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘদিন ধরে ৪ লাইন এর ঝুলে থাকা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি বিষয়টি লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে
ধারাবাহিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।
এক পর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শরণাপন্ন হন এবং হবিগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও আন্তরিক উদ্যোগে প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। ফলে বহু প্রতীক্ষিত সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণের মতে-নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছের আন্তরিকতা ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই প্রকল্পটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সরাসরি হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দীর্ঘদিনের জনদাবি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে তারা মনে করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্পখাতের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এদিকে প্রকল্পটির টেন্ডার আহবানের খবরে হবিগঞ্জবাসীর মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় লোকজন আশা করছেন, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছের তদারকি ও প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ের মধ্যেই সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
আরওপড়ুন..... মাধবপুরে যুবদল নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল, দলীয় ব্যবস্থার ইঙ্গিত
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com