স্টাফ রিপোর্টার | জাহারুল ইসলাম জীবন
[১৬ ডিসেম্বর ২০২৫]
আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। রক্তক্ষয়ী নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি অর্জন করেছিল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই থেকে চার লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলার আকাশে উদিত হয়েছিল মুক্তির সূর্য। বিজয়ের ৫৫ বছরে জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিপীড়ন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করে। রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে অস্বীকারের বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করে। এরপর ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০-এর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চূড়ান্ত রূপ নেয়।
এই গণআন্দোলনে ভীত হয়ে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালিয়ে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা—সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধে দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। রাজধানী থেকে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি ভবনে উত্তোলন করা হয়েছে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা।
মহান বিজয় দিবস কেবল একটি তারিখ নয়—এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং অদম্য সংকল্পের প্রতীক। এই দিনে জাতি নতুন করে শপথ নেয়—শহীদদের স্বপ্নের একটি দুর্নীতিমুক্ত, উন্নত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়া বাংলাদেশ বিনির্মাণের।
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com