
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাঁজা (ক্যানাবিস) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহুল ব্যবহৃত একটি মাদকদ্রব্য। অনেকেই এটিকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর মনে করলেও চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত গাঁজা সেবন মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের ক্ষেত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব আরও বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাঁজা সেবনের ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা এবং শেখার সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘদিন গাঁজা সেবন করলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, মানসিক অস্থিরতা এবং কিছু ক্ষেত্রে মনোবৈকল্যের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধূমপানের মাধ্যমে গাঁজা গ্রহণ করলে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসনালীর প্রদাহ এবং ফুসফুসজনিত নানা সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া গাঁজা সেবনের পর হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গাঁজা সেবনকারীদের মধ্যে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি এবং আসক্তির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যানবাহন চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, গর্ভাবস্থায় গাঁজা সেবন মা ও অনাগত শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই গর্ভবতী নারীদের এ ধরনের মাদকদ্রব্য থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবহার কমিয়ে আনা সম্ভব। তারা তরুণদের সুস্থ ও মাদকমুক্ত জীবনযাপনের প্রতি উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আরওপড়ুন..... রুমিন ফারহানার প্রশ্নে স্থানীয় নির্বাচন ইস্যুতে মুখ খুললেন মন্ত্রী
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com