রিংকু দেবনাথ, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষ্যে নান্দনিক প্রতিমা নির্মাণ, দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপসজ্জা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের ‘শ্রেষ্ঠ পূজামণ্ডপ’ সম্মাননা স্মারক অর্জন করেছে মাধবপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বণিক বাড়ি(কানাই ভিলা)শারদীয় দুর্গোৎসব। সম্মাননায় প্রথম স্থান অর্জন করায় আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।বণিক বাড়িতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন রবিন বণিক। তাঁর তত্ত্বাবধান ও সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পূজার আয়োজন, প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সুশৃঙ্খল আয়োজন ও নান্দনিকতার স্বীকৃতি হিসেবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।সম্মাননা স্মারকে ‘শ্রেষ্ঠ পূজামণ্ডপ—প্রথম’ হিসেবে বণিক বাড়ি শারদীয় দুর্গোৎসবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্মারকটি সৌজন্য হিসেবে প্রদান করেছে জেলা পুলিশ, হবিগঞ্জ।এ অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করে পূজার সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক রবিন বণিক বলেন, “বণিক বাড়ি শারদীয় দুর্গোৎসবের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ পূজামণ্ডপ’ সম্মাননা অর্জন আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। এই স্বীকৃতি আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা এবং সবার সহযোগিতার ফল। প্রথমবারের মতো পূজার আয়োজন করে এমন সম্মাননা পাওয়া আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি সুন্দর প্রতিমা, নান্দনিক মণ্ডপসজ্জা এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় উৎসবটি উদযাপন করতে। এই অর্জনের জন্য হবিগঞ্জ জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি যাঁরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতেও সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রেখে আরও সুন্দর আয়োজন করার প্রত্যাশা রাখি।”
এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে পূজামণ্ডপগুলোর কমিটি ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) জনাব মো. তারেক মাহমুদ।
তিনি বলেন, “এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রতিটি পূজামণ্ডপেই সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হয়েছে। আয়োজকেরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি, আয়োজনের বিভিন্ন দিক এবং জনমতের ভিত্তিতে পূজামণ্ডপগুলোর কমিটিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। এ সম্মাননা শুধু একটি মণ্ডপের অর্জন নয়, বরং সব পূজামণ্ডপের আয়োজকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে যেসব কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও যেকোনো ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের পাশে থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার।”
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যতে পূজামণ্ডপগুলোর নান্দনিকতা বৃদ্ধি, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে আয়োজকদের আরও উৎসাহিত করবে। বণিক বাড়ি শারদীয় দুর্গোৎসবের এ অর্জন মাধবপুরের দুর্গাপূজা উদযাপনে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরওপড়ুন...... শিমুলঘরের তিন পূজামণ্ডপে সাংবাদিক এম এ কাদেরের অনুদান
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com