প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ১১:৫০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২৪, ২০২৬, ৮:৫৫ এ.এম

কায়েস আহমদ সালমান, মাধবপুর:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু প্রায় এক দশক ধরে ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো যানবাহন, পথচারী এমনকি গবাদিপশুও চলাচল করতে পারছে না। ফলে সম্ভাবনাময় এ অবকাঠামোটি উপকারের বদলে এলাকাবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরষপুর রেলওয়ে ব্রিজের দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হলেও ‘বাঘদাছড়া সেতু’ নামে পরিচিত হাসিনাবাদ-জামালপুর সংযোগ সেতুটি চালু না হওয়ায় পুরো সড়ক ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। এতে মাধবপুর ও পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
হরষপুর থেকে কাশিমনগর এলাকার দূরত্ব কম হলেও সেতু চালু না থাকায় স্থানীয়দের ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি যাতায়াত ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নালায় পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাশের রেল ব্রিজের ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে পারাপার হন। প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ ওই ব্রিজ পার হতে একজন সুস্থ মানুষেরও ৮-১০ মিনিট সময় লাগে। এ সময় হঠাৎ ট্রেন চলে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য এই পথ প্রায় অতিক্রম-অযোগ্য।
হরষপুর, শিবরামপুর, জামালপুর, বিষ্ণুপুর, সমজদিপুর, শিয়ালউড়ি, হাসিনাবাদ, চেঙ্গার বাজার, কাশিমপুরসহ আশপাশের অন্তত ৩০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছেন এবং উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, ২০১০ সালে সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও সংযোগ সেতুটি চালু না হওয়ায় পুরো প্রকল্পটি অপূর্ণ রয়ে গেছে।
দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন,
“এতে লাখ লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। প্রশাসনের দৃষ্টি অন্যদিকে কেন, তা বোধগম্য নয়। দ্রুত সংস্কার না হলে আমরা তীব্র আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী জানান,
“চৌমুহনী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের সময় এডিপির অর্থায়নে কাজটি শুরু হয়েছিল। তবে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে সেতুর দুই পাশে সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। প্রায় ১২-১৩ বছর ধরে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।”
স্থানীয় সংসদ সদস্য হবিগঞ্জ-৪ আসনের সৈয়দ মো: ফয়সল বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কিনা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান,
“আমি বলিনি, আমি কেন বলব? বর্তমানে যিনি চেয়ারম্যান আছেন, তিনিই তখনও চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি এখন বিএনপির কর্ণধার। তারা যদি এটি প্রয়োজন মনে না করেন, আমি কেন বলব?”
এলাকাবাসীর দাবি, আর বিলম্ব না করে সেতুর দুই পাশের সড়ক ভরাট করে দ্রুত চালু করা হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে তারা মুক্তি পাবেন এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।