মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা:
হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভায় গাছ লাগানোর নামে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২১ সালে গুদামপাড়া মসজিদ থেকে বোয়ালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের এনভায়রনমেন্টাল অংশে ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানো হয়েছে বলে প্রকল্পের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে বুধবার বেলা ১১ টায় সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গাছের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রায় দেড়শ আম, জাম, কাঁঠাল, মেহগনি, অর্জুন, আকাশমণি ও কৃষ্ণচূড়া গাছের সন্ধান পাওয়া গেলেও, এগুলো ও-ই প্রকল্পের কয়টি এবং সড়কের পাশের জমি বা বাড়ির মালিকের লাগানো গাছ কয়টি তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানোর জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৭ লাখ টাকা। এছাড়া এই গাছ লাগানোর প্রকল্পের আওতায় পরিবেশগত বিভিন্ন কার্যক্রমে আরও ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে। সব মিলিয়ে ওই প্রকল্পের পরিবেশগত অংশে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৩২ হাজার ৮০০ টাকা। নথিতে উল্লেখিত খাত অনুযায়ী, ডাস্ট সাপ্লেসনে ২৫ হাজার ৩০০ টাকা, এয়ার কোয়ালিটি মেজারমেন্টে ৬০ হাজার টাকা, নয়েজ লেভেল মেজারমেন্টে ৬০ হাজার টাকা, ওয়াটার কোয়ালিটি মেজারমেন্টে ৬০ হাজার টাকা, প্রিভেনশন অব দ্য স্পিলেজ অ্যান্ড লিকেজে ৫ হাজার টাকা, ক্যাম্পসাইট ওয়েস্ট ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটিতে ৪০ হাজার টাকা, ক্যাম্পসাইট ওয়াটার সাপ্লাই ফ্যাসিলিটিতে ২০ হাজার টাকা, ক্যাম্পসাইট স্টেশন ফ্যাসিলিটিতে ৬০ হাজার টাকা, সেফটি মেটেরিয়ালসে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং গাছ লাগানোর জন্য ১৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ বিশ্বব্যাংক, প্রকল্প পরিচালক, এমডিএসপি দপ্তর এবং মাধবপুর পৌরসভার সমন্বয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের কনসালটেন্ট টিমের দুই প্রকৌশলী এবং পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ যৌথভাবে কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন। প্রকল্প পরিচালক দপ্তরের প্রকৌশলীরাও প্রকল্পের কাজ মনিটরিং করেছেন বলে দাবি পৌর কর্তৃপক্ষের।
প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পর্কেও নথিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের দেওয়া ৯০ শতাংশ অর্থ প্রকল্প পরিচালক দপ্তর থেকে সরাসরি ঠিকাদারের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছে। আর সরকারের (জিওবি) ১০ শতাংশ অর্থ ভ্যাট কর্তনের জন্য মাধবপুর পৌরসভার অনুকূলে ছাড় দেওয়া হয়।
তবে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৭০০টি গাছ লাগানোর দাবি থাকলেও বর্তমানে ওই সড়কে গাছের সংখ্যা ও অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় লাগানো গাছের বর্তমান অবস্থা, কতগুলো গাছ টিকে আছে এবং কতগুলো নষ্ট হয়েছে—এসব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে প্রকল্পের ব্যয় ও গাছ লাগানোর বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী গাছ লাগানো ও ব্যয়ের বিষয়টি বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মাধবপুর পৌরসভার মোক্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি তেমন ভালো করে জানি না। আপনি উপসহকারী প্রকৌশলী আকবর হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করেন, তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী মো.আলী আকবর বলেন , ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিলু এন্টারপ্রাইজ এই গাছ লাগানোসহ পুরো প্রজেক্টের কাজ বাস্তবায়ন করেছে। আমরা শুধু মনিটরিং করেছি। আকাশমণিসহ বিভিন্ন জাতের কাঠের গাছ লাগানো হয়েছে, তবে এখন অল্প কিছু গাছ আছে। গাছের অস্বাভাবিক দাম সম্পর্কে তিনি বলেন গাছের দাম বিশ্বব্যাংকের লোকজন নির্ধারণ করেছে। এখানে আমাদের কোন হাত নেই।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদি হাসান বলেন, গাছ লাগানোর বিষয়টি অনেক আগের। আমি বিষয়টি জানতাম না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
আরওপড়ুন...... যৌথ অভিযানের বিকল্প নেই! চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থান
প্রকাশক ও সম্পাদক : কায়েস আহমদ সালমান
হেড অফিস: সায়হাম ফিচার কমপ্লেক্স মাধবপুর হবিগঞ্জ Email: www.dainikcrimesin@gmail.com