1. salmankoeas@gmail.com : admin :
যৌথ অভিযানের বিকল্প নেই! চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থান - দৈনিক ক্রাইমসিন
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
লাখাইয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। জলঢাকায় জ্ঞানচর্চা ও মননশীল পরিবেশ গড়তে শুভ উদ্বোধন হলো উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরীর মৌলভীবাজারে আলোচিত কলেজ ছাত্র নাঈম হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদন্ড মাধবপুর পৌরসভায় ১৭শ গাছ লাগাতে ব্যয় ২০ লাখ টাকা, গাছের হদিস নেই যৌথ অভিযানের বিকল্প নেই! চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থান “লাখাইয়ে মৎস্য সম্পদের উৎপাদন ও প্রজনন বৃদ্ধির জন্য মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে” গাইবান্ধায় গ্রাম আদালতের সেবা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সমন্বয় সভা নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চালু হচ্ছে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট সাজা এড়াতে দীর্ঘদিনের আত্মগোপন, অবশেষে পুলিশের জালে রফিকুল কাজিপুরে রিভলবার ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার

যৌথ অভিযানের বিকল্প নেই! চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থান

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৫ Time View

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসেই শুরু হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সরকার পরিচালনায় স্থানীয় সরকারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন বিএনপিপন্থিদের স্থানীয় সরকারে আসা যখন খুবই গুরুত্বপুর্ণ; তখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সারাদেশে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশে চলছে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব। অপরাধীদের তা-বে ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। ফুটপাত থেকে শুরু করে শপিংমল, কাঁচাবাজার থেকে মাছবাজার, লেগুনা ও সিএনজি স্ট্যান্ড, অটোরিকশার গ্যারেজ, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, এমনকি শিল্প কারখানাÑ সবখানেই চলছে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব। এতে করে ক্ষমতাসীন বিএনপির ভাবমর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। আবার ‘ঘর পোড়া আগুনে আলু পোড়া খাওয়ার’ মতো জামায়াত- এনসিপি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বিএনপিকে গণবিচ্ছিন্ন করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এসব অপরাধকা-ের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নাম থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করতে বা অপরাধ ঠেকাতে সাহস পাচ্ছেন না। এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযানের বিকল্প নেই। আর এ ধরনের সিদ্ধান্ত সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে না এলে তা কার্যকর হবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু সাবেক প্রধান উপদেষ্টার আন্তরিকতার অভাবে সেটা তেমন সফলতা পায়নি। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সরকারের সময়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সফল হয়েছিলেন। জনগণের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থাকায় ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ এ চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে জড়িত বিএনপির বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। রাজনৈতিক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপির ইমেজ রক্ষা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের ভোট পেতে চাইলে দ্রুতই অপরাধ দমনে অভিযান পরিচালনা করা উচিত। শেখ মুজিবুর রহমান চোরাচালান এবং অপরাধ দমনে ১৯৭৪সালের ২৪ এপ্রিল সেনাবাহিনীকে অভিযানে নামিয়ে যেমন দলের অভিযুক্তদের গ্রেফতারের মাধ্যমে চোরাচালান ঠেকিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর উচিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অভিযান পরিচালনা করে দল-মত নির্বিশেষে অপরাধীদের পাকড়াও করা। তা না হলে চাঁদাবাজি-দখলবাজির জাল যেভাবে সারাদেশে বিস্তৃতি ঘটেছে এবং জামায়াত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ‘বিএনপিকে চাঁদাবাজ’ ট্যাগ মিশনে নেমেছে সময় পেরিয়ে গেলে র ভাবমর্যাদা ধরে রাখা যাবে না। তবে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, রাষ্ট্র ও জনগণের প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পুলিশ বাহিনী যেভাবে কাজ করছে, তারা তাদের অ্যাক্টিভিটি আরো বাড়াচ্ছে। তবে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে।

গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুরে ৫০ বছরের পুরনো অত্যন্ত সুপরিচিত বেসরকারি দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র ‘রাড্ডা’ কার্যালয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় সন্ত্রাসীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে এক্সকেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় অসচ্ছল মা ও শিশুদের জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ ছিল নীরব দর্শক। তিন ঘণ্টাব্যাপী তা-ব চলাকালে পুলিশ ছিল চরম নিষ্ক্রিয় ও নীরব দর্শক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং বিএনপির একজন সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা থাকায় পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পায়নি। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। গতকালও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, পাকিস্তান আমলেও হাসপাতালে এমন তা-বের ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতালে তা-বের রেশ কাটতে না কাটতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় ঘটে আরেক ঘটনা। দেশের আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের (শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের ভাগ্নি জামাতা) স্টুডিওতে চালানো হয় হামলা ও ভাঙচুর। জমি সংস্ক্রান্ত বিষয়ে এ ভাঙচুর হলেও ঘটনার পরপরই সালমান মুক্তাদির ফেসবুক ভিডিওতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি খোলাখুলিভাবে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাদের চাঁদাবাজ বলে অভিযুক্ত করেন এবং

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সালমান মুক্তাদিরের এ বক্তব্যকে ঢালাও অভিযোগ বলে উড়িয়ে দেন। পরে অবশ্য সালমান মুক্তাদির জানান, তার কাছে কেউ চাঁদা চায়নি। এছাড়া রাজধানীর আদাবরে বাড়ি ও মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টার ঘটনাও সামনে এসেছে। সেখানেও দখল করা জমি দীর্ঘদিন পর উদ্ধারের ঘটনা দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু একের পর এক ঘটনাকে পুঁজি করে ‘বিএনপি চাঁদাবাজ’ সোশ্যাল মিডিয়ায় জামায়াতি ট্যাগে সরকারের ভূমিকা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে একই আলোচনার ঝড় উঠছেÑ অপরাধীরা রাজনৈতিক পরিচয় বা ওপর মহলের ইন্ধন পাচ্ছে বলে এভাবে বেপরোয়া হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করছে সরকার। নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। কিন্তু চাঁদাবাজির সঙ্গে যে ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িয়ে পড়েছেন, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের এক তালিকায়।

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে জনগণের রায়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি নেতাকর্মীরা যখন সহায়-সম্বলহীনদের হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেয় আর চাঁদাবাজি চালায়, তখন দেশবাসী কী বার্তা পায়? স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ১৫ বছর ৮ মাসের শাসনের স্মৃতি এখনো মানুষের মনে তাজা, বিএনপির নীতিনির্ধারকরা কি এই নৈরাজ্যের চূড়ান্ত পরিণতি অনুধাবন করতে পারছেন না?

চারদিকের এই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার অবশ্য দাবি করছে যে, তারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তার রাজনৈতিক পরিচয় (দলীয় পদবি) বিবেচনা করা হবে না; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির নীতিনির্ধারকদের বিএনপিকে অনুধাবন করতে হবেÑ দেশবাসী এক সংকটময় মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। দিল্লিতে বসে হাসিনা কালনাগিনীর মতো ফনা তুলছে; জামায়াত জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চেয়ারে বসে এখন রাষ্ট্রক্ষমতার মোহে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দলটি ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরুদ্ধে বিশাল বড় বাহিনীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নামিয়েছে। এমন অবস্থায় একদিকে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৈরি হওয়া নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা, অন্যদিকে জামায়াতের অপপ্রচার ও পুরাতন ক্যাডার রাজনীতি ও চাঁদাবাজির পুনরাবৃত্তি। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা কি সত্যিই নিজেদের দলীয় ক্যাডারদের লাগাম টেনে ধরে দেশে স্থায়ী আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন; নাকি অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের এই বিষবাষ্পেই তলিয়ে যান। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির গতকালও বলেছেন, ‘অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনার সুযোগ নেই। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।

সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে’। পুলিশের আইজিপির এমন বক্তব্যে মানুষের আস্থার কমতি হলেও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী নামানোর বার্তা দিয়েছেন।

“লাখাইয়ে মৎস্য সম্পদের উৎপাদন ও প্রজনন বৃদ্ধির জন্য মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে”

 

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2023 দৈনিক ক্রাইমসিন
Theme Customized BY ITPolly.Com
error: Content is protected !!