1. salmankoeas@gmail.com : admin :
সোনাই নদীতে কোটি টাকার সিলিকা বালি লুটপাট—প্রশাসন নীরব, সক্রিয় সিন্ডিকেট - দৈনিক ক্রাইমসিন
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মাধবপুরের জিপিএসের সহায়তায় ছিনতাইকৃত ট্রাকসহ তিন গরু উদ্ধার মাধবপুরে শিমের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা, লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা ডিমলায় শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি যোগাযোগের নম্বর প্রকাশ লাখাইয়ে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানহানি: ডিমলায় থানায় লিখিত অভিযোগ। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আলোচনায় সুজিত গোপ, গ্রেপ্তার ৭ নন্দীগ্রামে ৪৮ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, খোঁজ নিচ্ছেন এমপি মোশারফ হোসেন ​নীলফামারীতে সাইবার সেলের বিশেষ উদ্যোগ: ২৮টি হারানো মোবাইল উদ্ধার করে মালিকের হাতে হস্তান্তর মাধবপুরে ১১৯ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় ৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বসানো হয়েছে আইপি ক্যামেরা রকেট লঞ্চার হাতে ছাত্রলীগ নেতার ছবি ভাইরাল

সোনাই নদীতে কোটি টাকার সিলিকা বালি লুটপাট—প্রশাসন নীরব, সক্রিয় সিন্ডিকেট

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩০৫ Time View

ক্রাইমসিন সংবাদ:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সোনাই নদী এখন অবৈধ সিলিকা বালি উত্তোলনের খনিতে পরিণত হয়েছে। চৌমুহনী ইউনিয়নের নদীপাড়জুড়ে দিন-রাত চলছে কোটি টাকার সিলিকা বালি লুটপাট। খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, উপজেলা প্রশাসন কিংবা ভূমি অফিস—কোনো সংস্থার অনুমতি না থাকলেও সিন্ডিকেটের বালু তোলার মহোৎসব থেমে নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, সব দেখেও প্রশাসন নীরব ভূমিকায় থাকায় প্রভাবশালী একটি চক্র কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

চৌমুহনী ইউনিয়নের আলাবক্সপুর, মঙ্গলপুর, অলিপুর, মহব্বতপুর ও হরিণখোলা এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায় অন্তত ১৮–২০টি বিশাল বালুস্তূপ। এসব স্তূপে মজুদ রয়েছে প্রায় ২–৩ লাখ ঘনফুট সিলিকা বালি। বাজারদর অনুযায়ী যার মূল্য ১.৫–২ কোটি টাকা। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় লাখ খানেক ঘনফুট বালি পাচার হয়ে গেছে—যার বাজারমূল্য এক কোটি টাকার বেশি। কিন্তু এসব বালি জব্দ, তালিকা প্রস্তুত বা খনিজ মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানোর কোনো উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর।

নিয়ম অনুযায়ী নদী থেকে উত্তোলিত বালি সম্পর্কে ভূমি অফিস বা উপজেলা প্রশাসনের খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে—স্থানীয় কিছু কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে বিষয়টি গোপন করে রাখছেন। ফলে সরকারি কোষাগার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব, আর সিন্ডিকেটের পকেট ভরছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, তিনি বালি জব্দ ও নিলামের জন্য খনিজ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তার দাবি—প্রশাসনের নীরবতার আড়ালেই সক্রিয় রয়েছে প্রভাবশালী একটি বালু সিন্ডিকেট।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা সোহেল মাহমুদ বলেন, “সরকারের কোটি টাকা রাজস্ব লোপাট হচ্ছে। অথচ উপজেলা প্রশাসন সব জেনেও অজুহাত দিচ্ছে। দ্রুত এসব বালু জব্দ করে নিলামে দিলে সরকার বিপুল রাজস্ব পেত। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয়রা জানান, এভাবে বালি লুটপাট চলতে থাকলে নদী ভাঙন, রাস্তা-ঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে। তাই দ্রুত সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে বালুচোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

মাধবপুরের এসিল্যান্ড মজিবুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, “এসব সিলিকা বালি কি না, আমরা নিশ্চিত নই। তবে কেউ চুরি বা অবৈধভাবে বালি পাচার করলে তথ্য দিলে জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সোনাই নদীর বালু লুটপাট বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোটি টাকার সম্পদ লোপাট হলেও প্রশাসনের চোখ কেন বন্ধ?

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2023 দৈনিক ক্রাইমসিন
Theme Customized BY ITPolly.Com
error: Content is protected !!