
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সাহেবনগর গ্রামের ৬৪ বছর বয়সী আশ্রব আলী পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অংশ পাওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে এক অমীমাংসিত পারিবারিক বিরোধে জড়িয়ে আছেন। প্রায় পাঁচ দশক ধরে চলমান এই বিরোধ এখনো কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।
আশ্রব আলীর অভিযোগ, তার পিতা মৃত ইউসুফ আলীর অন্যান্য সন্তান—ইয়াকুব আলী, রজব আলী ও মৃত সাজত আলী—পারিবারিক জমির বড় অংশ নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। তিনি সৎ ভাই হওয়ায় তাকে সম্পত্তির ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা ও বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি আবারও স্থানীয়ভাবে সালিশ প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, আশ্রব আলী পূর্বেই পারিবারিক সম্পত্তির পরিবর্তে অর্থ গ্রহণ করেছেন। তাই নতুন করে জমির দাবি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মনে করেন। এই দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অবস্থানই বিরোধকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে।
স্থানীয়রা জানান, এই বিরোধের কারণে আশ্রব আলীর জীবন দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তায় কেটেছে। তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কখনো আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কখনো অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেছেন। কয়েক বছর আগে তিনি দাবি করা জমিতে অবস্থান করলেও পরে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আশ্রব আলী বিভিন্ন সময় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। থানা, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং আইনগত সহায়তা সংস্থায় আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান মেলেনি। সর্বশেষ ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে তিনি লিগ্যাল এইডে গেলে সেখানে সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
সম্প্রতি স্থানীয় একটি ফেসবুক পেজ “ফোকাস নিউজ”-এ আশ্রব আলীর জীবনসংগ্রামের ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পারিবারিক জমি বিরোধে দলিলগত দুর্বলতা, সঠিক উত্তরাধিকার বণ্টনের অভাব এবং দীর্ঘসূত্রতা প্রধান সমস্যা হিসেবে কাজ করে।
সব মিলিয়ে আশ্রব আলীর জীবন এখনো এক অনিশ্চিত অপেক্ষার নাম—যেখানে জমির বিরোধ শুধু সম্পত্তির নয়, বরং একজন মানুষের দীর্ঘ জীবনের সংগ্রাম ও বঞ্চনার প্রতিচ্ছবি।
আরওপড়ুন…. নিজের মাথায় গু`লি চালিয়ে পুলিশ সদস্যের আ`ত্মহ`ত্যা
Subscribe to get the latest posts sent to your email.