
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হামের যন্ত্রণায় কাতর ছোট্ট শিশুরা। কেউ হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে, কেউ মায়ের কোলে। অসুস্থ সন্তানকে ঘিরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ভিড়। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা দিয়েছে এমন মানবিক সংকট।
গত এক সপ্তাহে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম আক্রান্ত হয়ে ৪৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের অধিকাংশই শিশু। রোগীর চাপ বেড়ে হাসপাতালের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হওয়ায় সিট সংকটে অনেক শিশুকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
ভর্তি রোগীদের কয়েকজনের অভিভাবকের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে কিছু ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হলেও চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীর চাপে ওয়ার্ডে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। সিট না পেয়ে কয়েকজন শিশু রোগীকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। অসুস্থ শিশুদের পাশে বসে ও দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট দিনে হাম আক্রান্ত ৪৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
চৌমুহনী ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের আশা উদ্দিনের ৮ বছর বয়সী মেয়ে আকলিমা আক্তার গত শুক্রবার থেকে হামে আক্রান্ত। বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে রবিবার দুপুরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘চিকিৎসক ওষুধ লিখে দিয়েছেন। সেগুলো বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়েছে।’
একই অভিযোগ হাম আক্রান্ত ৩ বছর বয়সী ইসপা আক্তারের বাবা আব্দুর রহিমের। রবিবার তিনি মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পেশায় সবজি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, ‘মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে।’
হাসপাতালের রোগীদের ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নার্স বলেন, ‘রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ না থাকায় কিছু ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। তবে হাসপাতালে যেসব ওষুধ রয়েছে, সেগুলো রোগীদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত রোগীদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে থাকা উচিত। কিন্তু একজন রোগীর সঙ্গে কয়েকজন স্বজন হাসপাতালে আসছেন। এতে রোগীর সংখ্যা ও ভিড় বাড়ছে এবং চিকিৎসাসেবা দিতে চরম বিড়ম্বনার সৃষ্টি হচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান বলেন, ‘হামের কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। হাম আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে সে অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়। তবে চাহিদার তুলনায় বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ সরবরাহ করা যাচ্ছে না।’
আরওপড়ুন…. মৌলভীবাজারে বিএনপির সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচি, নেতৃত্বে মন্ত্রী আরিফুল হক