1. salmankoeas@gmail.com : admin :
আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের টানাপোড়েনঃ নারী প্রজন্মের একাল-সেকাল। - দৈনিক ক্রাইমসিন
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মাধবপুরের জিপিএসের সহায়তায় ছিনতাইকৃত ট্রাকসহ তিন গরু উদ্ধার মাধবপুরে শিমের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা, লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা ডিমলায় শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি যোগাযোগের নম্বর প্রকাশ লাখাইয়ে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানহানি: ডিমলায় থানায় লিখিত অভিযোগ। নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় আলোচনায় সুজিত গোপ, গ্রেপ্তার ৭ নন্দীগ্রামে ৪৮ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, খোঁজ নিচ্ছেন এমপি মোশারফ হোসেন ​নীলফামারীতে সাইবার সেলের বিশেষ উদ্যোগ: ২৮টি হারানো মোবাইল উদ্ধার করে মালিকের হাতে হস্তান্তর মাধবপুরে ১১৯ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় ৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বসানো হয়েছে আইপি ক্যামেরা রকেট লঞ্চার হাতে ছাত্রলীগ নেতার ছবি ভাইরাল

আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের টানাপোড়েনঃ নারী প্রজন্মের একাল-সেকাল।

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৭৪ Time View

জাহারুল ইসলাম জীবন-  স্টাফ রিপোর্টার।

বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় এক নীরব অথচ গভীর পরিবর্তন দতির দির লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা আগামী দিনে পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত তরুণীদের মধ্যে বিবাহ বিমুখতা এবং কর্মজীবনের প্রতি অত্যধিক মনোযোগের প্রবণতা একটি নতুন সামাজিক সংকটের জন্ম দিচ্ছে। বিভিন্ন তথ্য ও আলোচনায় উঠে আসছে যে, বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী উচ্চশিক্ষিত নারীদের একটি বড় অংশ এখনও অবিবাহিত। এই পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক, কারণ এটি শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার উপরও প্রশ্ন তুলছে।
এক সময় যেখানে নারীর প্রধান পরিচয় ছিল সংসার ও পরিবার, সেখানে আধুনিক শিক্ষা ও পেশাগত সাফল্যের হাতছানি তাদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে নারীরা এমন এক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন যেখানে বিবাহ এবং মাতৃত্ব তাদের কাছে গৌণ হয়ে পড়ছে। এর ফলে তারা যৌবনের স্বাভাবিক চাহিদা, আবেগ এবং ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বদলে যাওয়া সম্পর্কের সমীকরণঃ আনুগত্য না প্রতিদ্বন্দ্বিতা?
প্রথাগত পারিবারিক কাঠামোতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ভিত্তি ছিল পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা এবং কিছু ক্ষেত্রে নারীর আনুগত্য। কিন্তু আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত নারীরা কর্মক্ষেত্রে যেমন নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছেন, তেমনি সংসারেও নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে চাইছেন। কিছু ক্ষেত্রে এটি ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য দরকষাকষি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বেড়ে ওঠা অনেক পুরুষ তাদের স্ত্রীর মধ্যে ‘আনুগত্য’, ‘কোমলতা’ বা ‘নারীত্ব’ খুঁজে পাচ্ছেন না। এই মানসিক সংঘাতের ফলে অনেক সংসারেই ফাটল ধরছে এবং প্রতিনিয়ত-ই বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পুরুষদের মতো করে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে অনেক নারীর মানসিকতাতেই পরিবর্তন এসেছে। তারা শারীরিকভাবে নারী হলেও, মানসিকভাবে পুরুষালী গুণাবলী অর্জন করছেন, যা তাদের পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একজন পুরুষ যখন তার স্ত্রীর মধ্যে দৈহিকভাবে নারীত্ব খুঁজে পেলেও মানসিকভাবে পুরুষালি দৃঢ়তা দেখতে পান, তখন সম্পর্কের টানাপাপোড়েন সৃষ্টি হয়।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সংকটঃ একাকীত্ব ও বঞ্চনার আশঙ্কা!
আগামী ৫ থেকে ৭ বছরে এই সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাখ লাখ তরুণী বিবাহহীন জীবনযাপন করবেন, যা তাদের মধ্যে একাকীত্ব, হতাশা এবং মানসিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। শুধু তাই নয়, এর ফলে তারা সুস্থ ও সুন্দর পারিবারিক জীবন থেকে বঞ্চিত হবেন। কিছু ধর্মীয় বিশ্লেষক মনে করেন, এর ফলে নারীরা শুধুমাত্র পার্থিব সুখ থেকেই বঞ্চিত হবেন না, বরং পরকালের মুক্তি থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন, যদি পারিবারিক দায়িত্ব পালনকে অবহেলা করা হয়।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সমাজবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ এবং ধর্মীয় নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষা ব্যবস্থার এমন সংস্কার দরকার যা নারীর আত্মমর্যাদা ও কর্মদক্ষতাকে সম্মান করবে, একইসাথে তাদের পারিবারিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দেবে। নারীর ক্ষমতায়ন যেন পারিবারিক বন্ধনকে দুর্বল না করে বরং আরও শক্তিশালী করে, সেই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র ক্যারিয়ারের সাফল্য নয়, বরং একটি পরিপূর্ণ জীবন ধারণের জন্য সুস্থ পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত সুখের গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
এই সামাজিক পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে না পারলে, হয়তো আমরা এক এমন ভয়ংকর নারী প্রজন্মের মুখোমুখি হবো, যারা আধুনিকতার উজ্জ্বল আলোয় নিজেদের ঝলমলে করলেও, ব্যক্তিগত জীবনে একাকীত্ব আর অপ্রাপ্তির এক গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2023 দৈনিক ক্রাইমসিন
Theme Customized BY ITPolly.Com
error: Content is protected !!