
নিজেস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর গুলশানে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক সময় টিউশন করে পড়ালেখার খরচ চালানো দুই ভাই সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব। একসময় রাজশাহীতে শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত এই দুই ভাই হঠাৎই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় বিস্মিত হয়েছেন তাদের এলাকাবাসী ও পরিচিতজনেরা।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৬ জুলাই) রাত ৮টার দিকে গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও নিষিদ্ধ ঘোষিত নেত্রী শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন এই দুই ভাইও। তারা নিজেদের ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে পরিচিত দিয়ে বাসায় গিয়ে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। এর আগে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, বাকি টাকা চাইতে গেলে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।
সিয়াম ও সাদাব—দুজনই রাজধানীর প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তাদের আদি বাড়ি নাটোরের গোপালপুর হলেও পরিবার এখন রাজশাহীর কেচুয়াতৈল এলাকায় বসবাস করছে। তাদের বাবা এসএম কবিরুজ্জামান মেসার্স এন বি ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনে স্বল্প বেতনের কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। টিউশন করে নিজেদের খরচ চালাতেন দুই ভাই। তবে কয়েক মাস আগে হঠাৎই টিউশন ছেড়ে দেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ছেলেকে নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তাদের বাবা কবিরুজ্জামান। সরেজমিনে তার কর্মস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তিনি গাড়িতে গ্যাস ভরার কাজ করছেন। কণ্ঠ ভার করে তিনি বলেন, “এই আয় দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। ছেলেরা আগে টিউশন করত, ভালো ছিল। এখন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। রোববার সকালে জানতে পারি, তারা চাঁদাবাজির অভিযোগে ধরা পড়েছে। বিশ্বাস করতে পারছি না। ওদের জীবনধারা এমন ছিল না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত, দাঁড়ি রেখেছে। চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়াবে, এটা মানা খুব কঠিন।”
এ ঘটনায় রাজশাহীর স্থানীয়রাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। খড়খড়ি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করা সিয়াম ও সাদাব সম্পর্কে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং এনসিপির রাজশাহী মহানগরের সমন্বয়ক মোবাশ্বের আলী বলেন, “এরা আমাদের স্কুলের ছাত্র ছিল। অনেক ভালো ছেলে ছিল। এমন ঘটনায় জড়াবে, কখনো ভাবিনি।”
জানা গেছে, তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর সংগঠন থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। একই মামলায় গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় সদস্য আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদ। তাদের বিরুদ্ধেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে সিয়াম ও সাদাবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তাদের একসঙ্গে বেশ কিছু ছবি রয়েছে।
ঘটনার পর চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্তে বেরিয়ে আসছে এক সময়ের সাধারণ ছাত্রদের অপরাধ জগতের সাথে জড়িত হয়ে পড়ার বিস্ময়কর এই যাত্রার নানা দিক।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.