
ক্রাইমসিন সংবাদ :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বাগানের ১৮ নম্বর সেকশনে বাগান ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটনের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো বাগান এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বাগান সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কোম্পানির মালিকানাধীন একটি জলাশয় থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুদিন আগে কয়েকজন ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই রাতের আঁধারে জলাশয় থেকে মাছ ধরার চেষ্টা করলে বাগান ব্যবস্থাপক বাধা দেন। এতে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
বাগান ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন জানান, সোমবার সকালে কারখানার সামনে কিছু লোক জড়ো হয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়। তবে সাধারণ শ্রমিকরা এতে সাড়া না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজে যোগ দেন। তিনি আরও বলেন, দুপুরের দিকে ১৮ নম্বর সেকশনে কাজ পরিদর্শনে গেলে একদল উশৃঙ্খল যুবক সেখানে উপস্থিত হয়ে নারী শ্রমিকদের কাজে বাধা দেয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তার ব্যবহৃত গাড়ি ঘিরে ফেলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে গাড়িটির সামনের ও পেছনের গ্লাসসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে, বাগানের সাবেক শ্রমিক নেতা স্বরজিত পাসি ভিন্ন অভিযোগ তুলে বলেন, কয়েক দিন আগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় উৎসব আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। বিষয়টি শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই প্রতিবাদে সোমবার ম্যানেজারের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে শ্রমিক নেতা হেমন্ত পান গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দুপুর দুইটার দিকে পৃথকভাবে একটি মিছিল করেন। তিনি বলেন, “যারা বাগানে অশান্তি সৃষ্টি করে ভাঙচুরের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।”
ঘটনার পর বাগান এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Discover more from দৈনিক ক্রাইমসিন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.