
কায়েস আহমদ সালমান, মাধবপুর:
হবিগঞ্জের চা বাগান এলাকায় বসবাসকারী শ্রমজীবী মানুষের জীবন এখনো দারিদ্র্যের সঙ্গে নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলছে। প্রতিদিন বাগানে কাজ করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়ে কোনোভাবে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটালেই প্রায় সব শেষ হয়ে যায়। অনেক পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা। এমন বাস্তবতায় সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানো তো দূরের কথা, অনেক সময় একটি স্কুল ড্রেস কেনাও সম্ভব হয় না। ফলে চা বাগানের অনেক শিশু সাধারণ জামাকাপড় পরে বিদ্যালয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এই দারিদ্র্য ও বঞ্চনার চিত্র দেখে তাদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হবিগঞ্জের সায়হাম নিট কম্পোজিটের উদ্যোক্তা সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। তাঁর ব্যক্তিগত অর্থায়নে চুনারুঘাট উপজেলার চন্ডিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হয়েছে। নতুন পোশাক পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে এখন আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। তারা নতুন ড্রেস পরে উৎসাহ নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সমীরণ জানায়, চা বাগানের অধিকাংশ পরিবারই অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটায়। অনেক সময় মা-বাবা সন্তানদের প্রয়োজনীয় সবকিছু দিতে পারেন না। পড়ালেখার খরচ জোগাতেই তাদের হিমশিম খেতে হয়। স্কুল ড্রেস না থাকায় অনেক সময় লজ্জা নিয়েই বিদ্যালয়ে যেতে হতো। কিন্তু সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বিদ্যালয়ে এসে তাদের অবস্থা দেখে মর্মাহত হন এবং ৩৭৫ জন শিক্ষার্থীকে নতুন স্কুল ড্রেস উপহার দেন। এতে শিক্ষার্থীরা খুবই আনন্দিত।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সলের ছেলে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ চা বাগান এলাকায় এসে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখেন। ২৮টি চা বাগানের শ্রমিকদের কঠিন বাস্তবতা ও দুঃখ-কষ্ট দেখে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত হন। তিনি উপলব্ধি করেন যে চা বাগানের মানুষের উন্নয়নের জন্য সবার আগে প্রয়োজন শিক্ষা। শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের শিক্ষিত ও কর্মমুখী করে তুলতে পারলে তারা সমাজের মূলধারায় ফিরে আসতে পারবে। সেই চিন্তা থেকেই তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে চা বাগানের শিশুদের জন্য বিভিন্ন সহায়তামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, চা বাগানের অধিকাংশ শিশুই নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে বড় হয়। তাদের পরিবারগুলো দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খায়। ফলে সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, স্কুল ড্রেস কিংবা পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। একটি শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সমাজের সবার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, একটি স্কুল ড্রেস শুধু পোশাক নয়; এটি একটি শিশুর আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। যখন সব শিক্ষার্থী একই পোশাকে বিদ্যালয়ে আসে, তখন তাদের মধ্যে সমতা ও ঐক্যের অনুভূতি তৈরি হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চা শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনার মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করবে এবং ভবিষ্যতে দক্ষ ও শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে।
আরওপড়ুন…..নন্দীগ্রামে উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা ও ইফতার
Subscribe to get the latest posts sent to your email.