
নীলফামারীর জলঢাকায় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে জলঢাকা জিরো পয়েন্ট মোড়ে স্থানীয় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন—আমরা সচেতন কর্মী (আসক) নীলফামারী জেলা সভাপতি ও নির্যাতিত সাংবাদিক আল-আমিন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সাবু, সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক মোনা ইসলাম, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান, সাংবাদিক রোকনুজ্জামান, সামিনুর রহমান, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি এন আই মানিক, শ্যামল চন্দ্র রায়, কামরুজ্জামান, খোকনুজ্জামান খোকনসহ স্থানীয় সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, ঘটনার ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
সংবাদকর্মী জামিয়ার রহমান বলেন, “একজন সাংবাদিক প্রশাসনের সামনেই নির্যাতিত হন, তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। অথচ অভিযুক্তরা আজও এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মিষ্টি বিতরণ করছে। পুলিশ কি এসব দেখে না? আমরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি—অভিযুক্ত আলম ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার না হলে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
মানববন্ধনের প্রধান সমন্বয়ক ও নির্যাতিত সাংবাদিক আল-আমিন ইসলাম বলেন, “আমাকে যারা হামলা করেছে তারা এখনো ধরা পড়েনি, বরং জামিনে ঘুরছে—এটি প্রশাসনের জন্য লজ্জার বিষয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সুশান্ত রায়কে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, কারণ তিনি আসামি ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।”
আসক জেলা সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সাবু বলেন, “আল-আমিন ভাই আমাদের সামনেই নির্যাতিত হয়েছেন। প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা দোষী পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণ ও আলম বাহিনীর দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
তবে নির্যাতিত সংবাদকর্মী আল-আমিন ইসলাম জানান, জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সংবাদ ও মানবাধিকার কর্মী নাহিদ হাসানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলার ১৫ নম্বর আসামি করা হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর নির্যাতন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। মানববন্ধন থেকে নাহিদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির বিচার না হলে সারা দেশে যৌথ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
আরওপড়ুন….একাডালায় ইছামতী নদীর উপর নির্মিত বাঁশের সেতুতে ওঠার দুইপাশের রাস্তায় বিছানো হলো ইট
Subscribe to get the latest posts sent to your email.