
পটুয়াখালী ভার্সিটিতে, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল।।
দুমকী ও পবিপ্রবি পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ মার্চ) ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. আমিনুল ইসলাম ও আবু বকর সিদ্দিক এর সঞ্চালনায় কৃষি অনুষদের কনফারেন্স রুমে উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
পবিপ্রবি’র কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ আবদুল কুদ্দুস এর সভাপতিত্বে উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান এবং পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোঃ ইকতিয়ার উদ্দিন।
উক্ত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন আইন ও ভুমি প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোঃ জামাল হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা ও জনসংযোগ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর মোঃ মাহফুজুর রহমান সবুজ, সহকারী রেজিস্ট্রার রিয়াজ কাঞ্চন শহীদ,
সুইন আহমেদ, মাহমুদ আল জামান, লোকমান হোসেন মিঠু ও সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, কর্মচারী পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং পবিপ্রবি ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।
জনসংযোগ বিভাগের উপ -পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান সবুজ বলেন, আমরা বিগত দিনগুলোতে নানা অন্যায় অত্যাচার সহ্য করে রাজপথে ছিলাম। আমরা শিক্ষা মুক্তি, রাজনৈতিক মুক্তি, অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছি। স্বৈরাচারী হাসিনা সবসময়ই আমাদের দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের লড়াই সংগ্রামের কারণে স্বৈরাচারী হাসিনা দেশান্তর হতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের পবিপ্রবির জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদ সবসময় শিক্ষাবান্ধব কাজের সাথে জড়িত ছিলাম। সামনের দিনগুলোতেও আরো ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেদের নিয়োজিত রাখব ইনশাআল্লাহ। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, জাতীয়বাদী কর্মকর্তা পরিষদ সবসময়ের জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নায্য অধিকার নিয়ে কাজ করে। বিগত দিনগুলোতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দমনপীড়ন সত্ত্বেও আমাদের কর্মকর্তারা নায্য অধিকারের বিষয়ে কথা বলেছে। আমাদের নায্য কথাকে, দাবিকে উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার সবসময় অনাচার করেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয়তাবাদ মানে দেশপ্রেম, জনগণের কল্যাণে কাজ করা। আমাদের দায়িত্ব হলো সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন করা, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ন্যায় ও সততার সঙ্গে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, আমাদের কর্মজীবনেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করা, যাতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এক সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, যদি ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকি, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমাদের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে। আমরা যারা সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছি, আমাদের কাজের মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীরা দেশপ্রেম ও নৈতিকতার শিক্ষা পাবে। এই ইফতার মাহফিলে আমরা প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন আমাদের সকলকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেন, দেশের স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করার তৌফিক দান করেন।
উপাচার্য বলেন আসুন, আমরা সবাই এক হয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে অবদান রাখি। তিনি ইফতার আয়োজনের জন্য পবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
বক্তব্য প্রদান শেষে দেশের মানুষের মঙ্গল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থতা এবং বাংলাদেশের মানুষের খেদমত করার তাওফিক চেয়ে ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।।#
Subscribe to get the latest posts sent to your email.