
মাধবপুর হবিগঞ্জ সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সুরমা চা বাগানে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর নারী পর্যটক গণধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি মোঃ নাসির (২৫)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রোববার বিকেলে সিলেট ৯ র্যাবের মিডিয় অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম শহিদুল ইসলাম জানান ১৮ এপ্রিল মধ্যে রাতে চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই থানার মিঠাছড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত নাসির মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম মোঃ নুর উদ্দিন।
র্যাব-৯ ও র্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে এই গ্রেফতার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বারগড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। গত ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেলে তিনি তার পরিচিত হাসন মিয়ার সঙ্গে সিএনজি যোগে সুরমা চা বাগানে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার দিকে চা বাগানের নির্জন স্থানে অবস্থানকালে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা লাঠি হাতে তাদের ধাওয়া করলে হাসন মিয়া পালিয়ে যান এবং ভুক্তভোগী নারী একা পড়ে যান।
পরে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে জোরপূর্বক বাগানের ভেতরের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে এবং তার কান থেকে স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করে।
এর আগে, গত ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে মামলার আরেকজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
গ্রেফতারকৃত নাসিরকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানা জানান,গ্রেপ্তার আসামীকে আদালতের মাধ্যমে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
Discover more from দৈনিক ক্রাইমসিন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.