
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ ডাক বিভাগে ঘুষ দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের সুপার সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আবুল কাদের-কে গত ১৫ এপ্রিল সিলেটে বদলি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই বদলির আদেশ বাতিল করতে তিনি বিভিন্ন মহলে তদবির চালাচ্ছেন এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় ও দাপ্তরিক সূত্রে জানা যায়, আবুল কাদেরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমা হচ্ছিল। তার সাবেক গাড়িচালক সোহেল মিয়া অভিযোগ করেন, আবুল কাদের তার কাছে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাকরি থেকে অপসারণ, বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোহেল মিয়া মৌলভীবাজার জেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে আদালতের নথিপত্র, পূর্ববর্তী অভিযোগ এবং বিভিন্ন প্রমাণাদি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আবুল কাদের দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ আদায় করতেন। শুধু তাই নয়, আংশিক অর্থ নেওয়ার পরও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। অনেক ক্ষেত্রে সাসপেনশন লেটার বা শাস্তিমূলক আদেশ প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে বদলির আদেশ জারি হওয়ার পরও তিনি পূর্বের তারিখ দেখিয়ে জুবায়ের আহমেদ নামে এক হিসাবরক্ষককে বিতর্কিতভাবে তার অফিসে বদলি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাহির-এর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সরকারি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী আচরণ বলে মন্তব্য করছেন এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সচেতন মহল।
অভিযোগের বিষয়ে আবুল কাদের বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে এক গাড়িচালক। তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও অসত্য।”
এ বিষয়ে ডাক বিভাগের পূর্বাঞ্চলের প্রধান পোস্টমাস্টার জেনারেল আল মাহবুব জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার পর তা বাতিলের সুযোগ নেই।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট জারি করা একটি অফিস আদেশেও আবুল কাদেরের বদলি ও কিছু আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় উঠে আসে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় আসায় প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
Discover more from দৈনিক ক্রাইমসিন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.