
মাধবপুর হবিগঞ্জ সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের ভিটা ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, চা শ্রমিকরা যুগের পর যুগ এ দেশে বংশ পরম্পরায় বসবাস করলেও এখনো তারা তাদের ন্যায্য ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে তারা নানা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাদের জীবনমান এখনো আশানুরূপ উন্নত হয়নি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, চা বাগান এলাকায় বসবাসরত শ্রমিকরা বিশুদ্ধ পানির সংকট, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার অভাব, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার অনুপস্থিতি এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার মতো বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। এসব সমস্যার কারণে তারা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারছেন না। তাই তাদের জন্য টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি তার নির্বাচনী এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন। এমপি জানান, মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় সরকারি দুটি হাসপাতাল থাকলেও সেগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, অ্যাম্বুলেন্স, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ ছাড়া তিনি বলেন, মাধবপুর-চুনারুঘাট এলাকায় চা বাগান, পাহাড়, নদী, হাওর-বাঁওড়, রাবার বাগান ও গ্যাস ক্ষেত্রসহ বিপুল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ রয়েছে। একই সঙ্গে এখানে ৫০টিরও বেশি রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ ও টেকসই রাখতে শিল্প পুলিশ নিয়োগ এবং একটি শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
তিনি আরও বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার বিভিন্ন খাতে সফলতার পরিচয় দিচ্ছে এবং দেশের উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংসদ সদস্যের এই বক্তব্য প্রচার হওয়ার পর তার নির্বাচনী এলাকায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ জনগণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ দেখা গেছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, “চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিয়ে অতীতে খুব কমই আলোচনা হয়েছে। আমাদের সংসদ সদস্য বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেছেন, এতে আমরা আশাবাদী হয়েছি। আমরা মনে করি, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা স্থায়ীভাবে উন্নয়নের ধারায় যুক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমানেরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
Discover more from দৈনিক ক্রাইমসিন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.