
মাধবপুর সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় গত কয়েক দিনের টানা ঝড়, বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এতে সোনাই নদী ও বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়ার তীরবর্তী এলাকায় পানি উপচে পড়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে রোপা আমন ধান, সবজি ক্ষেত ও মৎস্য খামারের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলায় থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিনই কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ফলে সোনাই নদীসহ সিমনাছড়া, তেলমাছড়া ও তেলাইন্নাছড়ার পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে কুটানিয়া, দীঘিরপাড়, সুলতানপুর, ভান্ডারুয়া, শাহজাহানপুর, গোয়াসনগর, নাজিরপুর ও জগদীশপুরসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে অসংখ্য রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে এবং শত শত পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আন্দিউড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে সোনাই নদীর পানি উপচে বিভিন্ন গ্রামে ঢুকে ফসল ও পুকুরের মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”
একইভাবে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের উত্তর সুরমা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার পুকুরসহ এলাকার অধিকাংশ পুকুর পানিতে তলিয়ে গিয়ে মাছ ভেসে গেছে। তেলিয়াপাড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন চৌধুরীও একই ধরনের ক্ষতির কথা জানান।
এদিকে, কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে উপজেলার অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, টানা ৩৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার পর স্বল্প সময়ের জন্য সরবরাহ চালু হলেও পুনরায় ঝড়ে লাইনের ক্ষতি হওয়ায় আবারও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
মাধবপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জগদীশপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো.আরজু মিয়া বলেন, টানা ঝড়-বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ইউনিয়নের অধিকাংশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং সবজি ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু আসাদ ফরিদুল হক জানান, ভারী বর্ষণে অনেক মৎস্য খামারি ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং তারা মাছ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে।