
মোঃ বাদশা প্রামানিক,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
“ক্ষমতা যে কেবল শাসনের জন্য নয়, বরং সেবার জন্য”—তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা প্রশাসন। কনকনে শীতের রাতে যখন পুরো উপজেলা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন একঝাঁক সরকারি কর্মকর্তা বেরিয়ে পড়লেন আর্তমানবতার সেবায়। কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা প্রচারের মোহ ছাড়াই মমতার ছোঁয়া তারা পৌঁছে গেলেন দুস্থ শিশু ও অসহায় মানুষদের দ্বারে।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শীতের তীব্রতায় যখন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জবুথবু হয়ে ঘুমিয়ে ছিল, ঠিক তখনি তাদের শরীরে পরম মমতায় কম্বল জড়িয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামানসহ তার প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন মানবিক উপস্থিতিতে মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা অভিভূত হন। কোনো কোলাহল ছাড়াই অত্যন্ত নীরবে এই কম্বল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
শুধু মাদ্রাসাই নয়, কনকনে ঠান্ডায় রাস্তার পাশে থাকা অসহায় পথচারী এবং ছিন্নমূল মানুষদের মাঝেও গভীর রাতে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে যারা সামান্য গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছিলেন, তাদের কাছে এই কম্বলগুলো হয়ে ওঠে এক টুকরো স্বস্তির উপহার।
মানবিকতার এই মিছিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন: উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মচারীবৃন্দ।
উপজেলা প্রশাসনের -উদ্যোগের বিষয়ে সচেতন মহল বলছেন, “ক্ষমতা নয়, মানবিকতাই যে একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়, আজ ডিমলা উপজেলা প্রশাসন তা প্রমাণ করল। প্রচারবিমুখ এই সেবা সত্যিকার অর্থেই প্রশংসার দাবি রাখে।”
সহমর্মিতা আর দায়িত্ববোধের মিশেলে শীতের রাতের এই নীরব অভিযানটি এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। আর্তমানবতার সেবায় প্রশাসনের এমন অংশগ্রহণ আগামীতে অন্য সবার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.