
মোঃ বাদশা প্রমানিক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
নীলফামারীর ডিমলায় দীর্ঘ তিন দশকের শিক্ষকতা জীবনের সফল সমাপ্তি টেনে অবসরে গেলেন পচারহাট বেঙ্গের ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ রায়হানা বেগম।
রবিবার (৩ মে) দুপুর দেড়টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে বিদায় জানানো হয়।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রকিবুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র নাথ রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাইমারী এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. মাসুদ করিম, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ওমর ফারুক, নুরে আলহাজ হাবিব এবং এ. কে. এম. আনোয়ারুল কবির।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাবুল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, তহসিন আবেদ, জয়নাল আবেদীন, আলমগীর কবীরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই বিদ্যালয় চত্বরে এক বিষণ্ণ অথচ সম্মানজনক পরিবেশ বিরাজ করছিল। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে রায়হানা বেগমের দীর্ঘ কর্মজীবনের নিষ্ঠার কথা। তিনি শুধু একজন প্রধান শিক্ষিকাই ছিলেন না, বরং বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও নৈতিক বিকাশের অন্যতম কারিগর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তাঁর হাত ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে আজ সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রতিষ্ঠিত।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার বীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “রায়হানা বেগম তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও সময়ানুবর্তিতার মাধ্যমে এই বিদ্যালয়কে এলাকায় একটি অনুকরণীয় মডেলে পরিণত করেছেন।” সহকর্মীরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, রায়হানা বেগম সবসময় বিদ্যালয়ের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন এবং একজন অভিভাবকের মতো সকলকে আগলে রেখেছেন।
প্রিয় শিক্ষিকার বিদায়লগ্নে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের চোখে ছিল অশ্রু। কেউ ফুল দিয়ে, কেউ বা হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে তাদের প্রিয় ‘ম্যাডাম’কে শেষ বিদায় জানায়। অভিভাবকরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সন্তানদের মানুষ করার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
বিদায় বেলায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রায়হানা বেগম বলেন, “এই বিদ্যালয়টি আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় ঠিকানা। জীবনের দীর্ঘ সময় এখানে কাটিয়েছি। এখানকার প্রতিটি ধূলিকণা আর শিক্ষার্থীদের মুখ আমার স্মৃতিতে চির অমলিন থাকবে। একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিকতার বীজ বপন করতে পারাটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধান শিক্ষিকাকে বিদ্যালয় পরিবার ও অতিথিদের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট, মানপত্র এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। সবশেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এক আবেগঘন আবহে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
দীর্ঘ তিন দশকের এই বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অবসরের মাধ্যমে পচারহাট বেঙ্গের ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি স্বর্ণালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, যার রেশ স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে থাকবে দীর্ঘকাল।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.