
মোঃ বাদশা প্রমানিক নীলফামারী প্রতিনিধিঁঃ
গতকাল রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থীকে প্রাণে বাঁচিয়ে নিজে জীবন উৎসর্গ করলেন বীর শিক্ষিকা মেহরিন চৌধুরী। নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মার পাশে সমাহিত হলেন।
এই শিক্ষিকার বাড়ী নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়া গ্রামে। তার লাশ বাড়িতে আসলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এলাকাবাসীরা জানান, মেহরিনের বাবা মরহুম মুহিত চৌধুরী। মেহরিন রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা ভার্সনের কো-অর্ডিনেটর (তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি) শিক্ষক ছিলেন। সম্প্রতি তিনি নিজ গ্রামের বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজকে মাইলস্টোনের মতো গড়ে তোলার স্বপ্নে এক মাস আগে ওই স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমনটাই জানিয়েছেন তার স্বামী মনসুর হেলাল। স্ত্রীকে হারিয়ে তিনি শোকে পাথর।
গত ২১ জুলাই(সোমবার) প্রতিদিনের মতো স্কুল শেষ করে শিশুদের হাতে ধরে গেট পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুলের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয় এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দগ্ধ হন মেহরিন। কিন্তু তখনো তিনি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিলেন এবং চিৎকার করছিলেন তোমরা আগে বের হও। পরে তাকে দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে সাতটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বার্ন ইউনিট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আজ বাদ জোহর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে গ্রামের বাড়ি জলঢাকার বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়ায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে তার দাফন করা হবে।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.