
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
চুনারুঘাট থানার এক এএসআইয়ের ঘুষসংক্রান্ত ভিডিও নিয়ে আলোচনা থামার আগেই একই থানার আরেক সহকারী উপ-পরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এএসআই অতনু বণিককে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চুনারুঘাট থানার এএসআই অতনু বণিককে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই অতনু বণিক এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নিচ্ছেন। টাকা চাওয়া ও হস্তান্তরের দৃশ্যও ভিডিওতে রয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে টাকা চাওয়ার বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
তবে ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময় এবং পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির পরিচয়ও নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, এএসআই অতনু বণিক থানায় দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন। বিভিন্ন বিষয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগেও একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল অতনু বণিকের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে ওই অভিযোগের পর কী ধরনের তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে এএসআই অতনু বণিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এর আগে, অতনু বণিকের বিরুদ্ধে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার ঠিক একদিন আগে চুনারুঘাট থানার আরেক এএসআই ইলিয়াস হোসেনের ঘুষসংক্রান্ত বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে এএসআই ইলিয়াস হোসেনকেও পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়।
একই থানার দুই এএসআইকে ঘিরে পরপর ঘুষসংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় থানার অভ্যন্তরীণ তদারকি ও জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, একই ধরনের অভিযোগ পরপর সামনে আসায় বিষয়টি ব্যক্তিগত অনিয়মের পাশাপাশি থানার নজরদারি ব্যবস্থার দিক থেকেও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, এএসআই অতনু বণিকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আগে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয়টিও যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অতনু বণিককে ইতোমধ্যে থানা থেকে ছাড়পত্র দিয়ে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
আরওপড়ুন….. ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে মাধবপুরে বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে র্যালি ও আলোচনা সভা