
মোঃ বাদশা প্রামানিক নীলফামারী প্রতিনিধঃ
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ভেন্ডাবাড়ী এলাকায় তিস্তা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। প্রভাবশালী মহলের খামখেয়ালিপনা ও আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চালানো এই কর্মকাণ্ডের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে কোটি টাকার সরকারি বাঁধ এবং স্থানীয় হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা। অথচ সব জেনেও স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে জনমনে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, তিস্তা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোলঘেঁষে বসানো হয়েছে শক্তিশালী শ্যালো ইঞ্জিনচালিত মেশিন। পাইপের মাধ্যমে নদী ও বাঁধের পাদদেশ থেকে অবিরত শুষে নেওয়া হচ্ছে বালু।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী হামিদুর রহমানের ছেলে সাদিকুল ইসলাম গত তিন দিন ধরে দিন-রাত সমানতালে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। বাঁধের এত কাছ থেকে বালু তোলায় ইতিমধ্যে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়তে শুরু করেছে। সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি। এলাকাবাসীর মতে, সামান্য বৃষ্টিপাত কিংবা তিস্তার পানি একটু বাড়লেই এই গুরুত্বপূর্ণ বাঁধটি মুহূর্তেই ধসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে, যার ফলে প্লাবিত হবে বিস্তীর্ণ জনপদ।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযুক্ত সাদিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তার আপন চাচা রকিবুল ইসলাম বাবলু ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। নিজেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে তিনি বুক ফুলিয়ে বলেন, “আমাদের ব্যক্তিগত জমি থেকে বালু উত্তোলন করছি, এতে সমস্যা কোথায়? বাঁধের সাথে মেশিন বসাবো না নদী থেকে আনব সেটা আমার বিষয়, আপনারা কেন এসেছেন?”
প্রশাসনের কোনো অনুমতি বা বৈধ কাগজপত্র আছে কি না—এমন প্রশ্ন করা মাত্রই তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং স্থানীয় এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতার নাম ভাঙিয়ে জানান যে, তাকে জানিয়েই এই অবৈধ কর্ম চলছে; এর জন্য আবার প্রশাসনের পারমিশনের প্রয়োজন নেই!
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান জানান, নদী বা জমি থেকে মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। শক্তিশালী চক্রের কাউকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—উপজেলা প্রশাসন যদি এতই সজাগ থাকে, তবে বাঁধের কোলঘেঁষে ভারী মেশিন বসিয়ে দিনের পর দিন প্রকাশ্যেই বালু তুলে নেওয়ার পরও কেন তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?
ব্যক্তিগত স্বার্থের বলি বানিয়ে একটি জনবহুল এলাকাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার এই দুঃসাহস কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিস্তা রক্ষা বাঁধ এবং এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা বাঁচাতে অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন চিরতরে বন্ধ করতে হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
আরওপড়ুন….. জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল