
মোঃ বাদশা প্রামানিক নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
ডোমারে সিনিয়ার সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজাকে হাত পা ও মুখ বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করায় একজনকে গ্রেফতার পর করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে বাদী হয়ে তোমার থানায় একটি অভিযোগ দাঁড় করলে, তার অভিযোগের আলোকে তরিকুল ইসলাম (৫০) নামে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে উপজেলার বোড়াগাড়ি থেকে গ্রেফতার করে ডোমার থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত তরিকুল ইসলাম নীলফামারীর ডোমার পৌরসভার মডেল স্কুলপাড়া এলাকা মৃত বাঙ্গুরু মাহমুদের ছেলে।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম জানান, “গতকাল সাংবাদিক নির্যাতনের খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ বিকেলে আহত সাংবাদিকের ছেলে বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ডোমার পৌরসভাধীন মডেল স্কুল পাড়ার মশিয়ার রহমানের ছেলে রাসেল একই এলাকার তরিকুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে উভয়ের সংসারে অশান্তি দেখা দেয়।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মশিয়ার ও তার ছেলেরা এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক রাজাকে তাদের বাড়িতে যাওয়ার অনুরোধ করেন। অসুস্থ থাকায় তিনি যেতে না চাইলে,তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মশিয়ার ও তার পরিবারের লোকজন সহ অনৈতিক সম্পর্কে জড়িতরা তাকে খুঁটিতে বেঁধে মুখ চেপে ধরে নির্যাতন চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
নির্যাতিত সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন,আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আমি সেখানে গিয়ে তাদেরকে বুঝাই বিষয়টি বাড়াবাড়ি করলে সামাজিক ভাবে দুই পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। দুই পরিবারকে এমন পরামর্শ দেয়ার এক পর্যায়ে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত নারীর পিতা তরিকুল ও পরকীয়ায় জড়িত ছেলের পিতা মশিয়ারের পরিবারের লোকজন আমাকে খুঁটিতে বেঁধে ফেলে। এর পর মুখ বেঁধে নির্যাতন শুরু করে। এ সময় আমার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা কেড়ে নেয় তারা। টানা দুই ঘণ্টা নির্যাতনের ফলে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়ি। ঘটনা জানতে পেরে এলাকাবাসী পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে শুনি আমাকে উদ্ধার করতে আসা স্বাধীন নামে এক যুবককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকেও আমার সাথে একই মেডিকেলে ভর্তি করা হলে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায়,তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.