
রমজানেও থামছে না ইসরায়েলের আগ্রাসনঃ ফিলিস্তিনে ধ্বংসযজ্ঞের গণহত্যা এখনো বিশ্ব বিবেকের নীরবতা!
বিশেষ প্রতিনিধি- জাহারুল ইসলাম জীবন।
পবিত্র রমজান মাসেও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসন থামছে না। যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরায়েল ও তার মিত্র দেশগুলো নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। নারী, শিশুসহ সাধারণ মানুষ গণহত্যার শিকার হচ্ছে। ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
এই অমানবিক পরিস্থিতিতে বিশ্ব মানবতা ও মুসলিম বিশ্বের নীরবতা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলোও ইসরায়েলের বর্বরতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। শুধু মৌখিক সমালোচনার মধ্যেই তাদের ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকছে।
ফিলিস্থিন ও ইসরাইল যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ- ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘ ও জটিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এরপর থেকে ইসরায়েল একের পর এক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড তাদের নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা সহ জবরদখল করে আসছে। ফিলিস্তিনিরা তাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছেঃ- সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলি আগ্রাসন আরও বেড়েছে। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অবরোধ ও নিয়মিত হামলা ফিলিস্তিনিদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। পবিত্র রমজান মাসেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইহা স্পষ্টই মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাতের সামিল! যুদ্ধ বিরোধীকে লংঘন করিয়া ইহুদীবাদী দেশ ইসরায়েল পবিত্র আল-আকসা মসজিদের দখলদারিত্ব সহ মুসল্লিদের ওপর প্রতিনিয়ত নামাজরত অবস্থায় নির্বিচারে নারী শিশু সহ সাধারণ জনগণের জানমালের উপর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হামলা, গণহত্যা সহকারে গাঁজায় সহ সমগ্র ফিলিস্তিন জুড়ে বিমান হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
বিশ্ব বিবেকের কেন নীরবতাঃ- বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মহল ইসরায়েলের আগ্রাসনের নিন্দা জানালেও, কার্যকর পদক্ষেপের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। শক্তিশালী দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। মুসলিম বিশ্বও ঐক্যবদ্ধভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে।
স্থায়ী ভাবে ইসরায়েলকে চাপ প্রয়োগ করায় সমাধানের পথঃ- ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে বাধ্য করতে হবে। ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ও পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান সম্ভব।
সর্বোপরি,ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করে এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে। যদি বারবার বিশ্ব বিবেক এই চরম সংকটাপূর্ণ সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে হয়তো বা ফিলিস্তিন এবং ইসরায়েল যুদ্ধ পৃথিবীর বুকে মারাত্মক ভয়াবহ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সতিকাগারের কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে পৃথিবীর বুকে একমাত্র প্রেক্ষাপট্ রচনা করবে বলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সমগ্র বিশ্বের বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.