1. salmankoeas@gmail.com : admin :
গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পরও লাখাইয়ে অধরা অস্ত্রধারীরা - দৈনিক ক্রাইমসিন
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মাধবপুরে জুলাই শহীদ শামীম মিয়ার নামে সড়ক নামকরণের দাবিতে স্মারকলিপি মাধবপুরে নিখোঁজ সাকিবকে ঘিরে উত্তেজনা, প্রতিপক্ষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ লাখাই সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন। লাখাই হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৬ জন আহত। আশা’র উদ্যোগে সিলেটে বৃক্ষ রোপন অভিযান মাধবপুরে স্কুল ভবনের ছাদ ভেঙে পড়ে আহত দপ্তরী, উদ্বেগ অভিভাবকদের আলোচিত রিসোর্টকাণ্ড: ৫০১ নম্বর কক্ষ নিয়ে যা বললেন মামুনুল হক শ্রীমঙ্গলে বাড়ির আঙিনা থেকে উদ্ধার হলো বিষধর শঙ্খিনী ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’ অবহেলা নয়, দ্রুত চিকিৎসা জরুরি—ব্রেন টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী?

গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পরও লাখাইয়ে অধরা অস্ত্রধারীরা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭০৮ Time View

লাখাই প্রতিনিধি:

গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পার হলেও হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় হত্যাযজ্ঞে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে অংশ নেওয়া তৎকালীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ উঠেছে, এই অস্ত্রধারী দলীয় সন্ত্রাসীরা এলাকার কিছু বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় দাপটের সাথে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম ব্যর্থতা প্রকাশ পাচ্ছে।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় হবিগঞ্জ ও ঢাকাসহ দেশের নানা জেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের দলীয় নেতা-কর্মীদের আক্রমণে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। হবিগঞ্জেই প্রাণ হারান দুই ছাত্র-জনতা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে হামলায় অংশ নেওয়া শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে রয়েছেন—হবিগঞ্জ-৩ আসনের বিনা ভোটে নির্বাচিত সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবু জাহিরের সহচর লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মহিবুর রহমান মহিবুর মেম্বার, লাখাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সামসু মিয়া, এবং অ্যাডভোকেট শফিউদ্দিন। এদের কেউই এখনও গ্রেফতার হননি।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলছেন, এই নেতারা বর্তমানে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং চাঁদাবাজি, জলমহল দখল, খাদ্য গুদাম ও সেচ প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ, নৌকা ঘাট ইজারা এবং স্থানীয় বিচারে ঘুষ বাণিজ্যের মতো বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। এই ব্যর্থতা কেবল পুলিশি তদন্তের দুর্বলতাই নয়, বরং একটি শক্তিশালী অপরাধী নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়।

 

লাখাইয়ের প্রধান অভিযুক্ত সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবু জাহির ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাঁর সহযোগী লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুশফিকুল আলম আজাদ সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করে আছেন।

পলাতক থাকা সত্ত্বেও এই নেতারা নিষ্ক্রিয় নন; বরং তাঁরা বিদেশ থেকে ভিডিও কল ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে লাখাইয়ের রাজনীতিতে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। দলীয় কর্মীদের প্রতি মাসে অর্থ অনুদান দেওয়ার খবর প্রমাণ করে যে তাঁদের অর্থ ও প্রভাবের ভিত্তি এখনো বেশ মজবুত।

অন্যদিকে, আশ্চর্যজনকভাবে মামলায় নাম না থাকা সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত কম প্রভাবশালী নেতা-কর্মীরাই গ্রেফতার হচ্ছেন। এমন অভিযোগও উঠেছে যে, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, এমন তৃণমূলের কর্মীরাও গ্রেফতার হয়েছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার সাধারণ মানুষ এই প্রতিনিধিকে বলেন, “সারা দেশ পরিবর্তন হলেও আমাদের লাখাই পরিবর্তন হয়নি। আমরা আশা করব, ব্যর্থতার এই দাগ মুছে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, এটি কেবল ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অস্ত্রধারীদের যেভাবেই হোক গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এছাড়া, পলাতকদের দ্রুত গ্রেফতার ও প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মামলাগুলোর তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আরওপড়ুন …মাধবপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর মতবিনিময়

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2023 দৈনিক ক্রাইমসিন
Theme Customized BY ITPolly.Com
error: Content is protected !!