
নিজস্ব প্রতিবেদক :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সোনাই নদী আজ ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে। এক সময়ের প্রবহমান নদী বর্তমানে ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন এবং নির্মাণ সামগ্রীর কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীতে অবাধে বর্জ্য ফেলা, দখল ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, কয়েক দশক আগে সোনাই নদী এলাকার মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। সারাবছর পানি থাকত, নৌকা চলাচল স্বাভাবিক ছিল, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। নদীর পানি দিয়ে কৃষকরা জমিতে সেচ দিতেন, জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর তীরে বাজার, দোকানপাট এবং বসতবাড়ি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। প্লাস্টিক, পলিথিন, গৃহস্থালির বর্জ্য ও নির্মাণকাজের মাটি নদীর তলদেশ ভরাট করেছে। অনেক স্থানে নদী এতটাই ভরাট হয়ে গেছে যে বর্ষা মৌসুম ছাড়া পানির অস্তিত্ব প্রায় দেখা যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, “নদীর কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। দোকানঘর ও বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।” অন্য একজন প্রবীণ আব্দুল করিম জানান, “আমরা ছোটবেলায় নদীতে সাঁতার কাটতাম, মাছ ধরতাম। এখন নদী শুধু ময়লা আর বর্জ্য ছাড়া কিছু দেখায় না। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, কয়েক বছরের মধ্যে নদীটির অস্তিত্বই শেষ হয়ে যাবে।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি এবং মাধবপুরের পরিবেশ কর্মী ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন, “নদী দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে। নদীর তীর রক্ষা এবং স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “একটি নদী শুধু পানি প্রবাহের উৎস নয়/ এটি পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। নদী শুকিয়ে গেলে আশপাশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। আমরা নদী খনন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের *কাছে বিষয়টি জানিয়েছি।”
স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া সোনাই নদী রক্ষা করা সম্ভব নয়। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে নদীর প্রাকৃতিক রূপ এবং জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাবে।
আরওপড়ুন…..কাজিপুরে সহস্রাধিক অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করলেন ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন