1. salmankoeas@gmail.com : admin :
লোডশেডিং ও রেড স্পাইডারের  দ্বৈত আঘাতে চা বাগানে দুর্দশা - দৈনিক ক্রাইমসিন
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
​নীলফামারীতে সাইবার সেলের বিশেষ উদ্যোগ: ২৮টি হারানো মোবাইল উদ্ধার করে মালিকের হাতে হস্তান্তর মাধবপুরে ১১৯ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় ৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বসানো হয়েছে আইপি ক্যামেরা রকেট লঞ্চার হাতে ছাত্রলীগ নেতার ছবি ভাইরাল মাঠপর্যায়ে কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু, ট্যাব বিতরণ :ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে রাজনৈতিক প্রভাব নেই- এমপি মোশারফ হোসেন লাখাইয়ে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবসে র্যালি ও আলোচনা সভা। কাজিপুরের চরাঞ্চলের দুই ইউনিয়ন পরিদর্শনে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ডিমলার বালাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন গোলাম রব্বানী প্রধান নন্দীগ্রামে ঘুমহীন প্রহরী, জনতার নিরাপত্তার ভ্যানগার্ড – আব্দুর রউফ রুবেল নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসককে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সচালক আটক মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ, মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতির প্রতিবাদ

লোডশেডিং ও রেড স্পাইডারের  দ্বৈত আঘাতে চা বাগানে দুর্দশা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ২২৭ Time View
মাধবপুর সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে হঠাৎ করে রেড স্পাইডার বা লাল মাকড়শা পোকার আক্রমণে চা উৎপাদনে ভয়াবহ ধস নেমেছে। উপজেলার  ৫টি বড় বাগানে এই পোকার বিস্তার দেখা দিয়েছে। চা গাছের কচি পাতার রস শুষে নেওয়ায় নতুন পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বাগানের সবুজ চা গাছ লালচে-কালো রঙ ধারণ করেছে। এতে চা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চা বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, মে মাস থেকে সাধারণত চা পাতা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। এ সময় উৎপাদন বেশি হওয়ার কথা থাকলেও এবার প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের রেশন, মজুরি, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাগান সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে কারখানায় নিয়মিত চা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁচা চা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জগদীশপুর চা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, কারখানার মেশিন বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। পলাশ নামে এক কর্মচারী জানান, “প্রতিদিন বাগান থেকে কাঁচা পাতা আসছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানা চালানো যাচ্ছে না। এতে কাঁচা পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে কখনো এত দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে বাগান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।”
দেশের অন্যতম বৃহৎ সুরমা চা বাগানেও একই চিত্র দেখা গেছে। বাগানের বিস্তীর্ণ এলাকা রেড স্পাইডারের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগানের ম্যানেজার বাবুল কুমার সরকার বলেন, “আগে এই মৌসুমে প্রচুর চা পাতা সংগ্রহ হতো। কিন্তু এবার উৎপাদন অনেক কমে গেছে। অথচ ২ হাজার ২০০ শ্রমিকের রেশন, মজুরি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। চা বিক্রির টাকায় এসব ব্যয় চালানো হয়। কিন্তু উৎপাদন কমে যাওয়ায় সংকট তীব্র হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “চায়ের উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় চায়ের বাজারদর বাড়েনি। তার ওপর রোগবালাই ও বিদ্যুৎ সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সরকার প্রতি বছর চা শিল্প থেকে বিপুল রাজস্ব আয় করে। তাই শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ভর্তুকি ঋণ ও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।”
একই ধরনের সংকট বিরাজ করছে তেলিয়াপাড়া, বৈকুণ্ঠপুর ও নোয়াপাড়া চা বাগানেও। নোয়াপাড়া চা বাগানের কারখানা দীর্ঘ তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। একাধিকবার চালুর চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
চা শিল্প সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে চা শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি দেশের চা উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2023 দৈনিক ক্রাইমসিন
Theme Customized BY ITPolly.Com
error: Content is protected !!