
মাধবপুর সংবাদদাতা :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী সোয়াবই ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামে এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২২ জুন) সকালে রাজেন্দ্রপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোয়াবই গ্রামের ফুয়াদ হাসান সাকিব ও রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মাহফুজ মিয়ার মধ্যে একটি মাছের দিঘি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
এ বিরোধের জেরে গত শনিবার রাতে গন্ধবপুর এলাকায় সাকিবের মাছের খামারে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাহফুজ মিয়ার নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল খামারে ভাঙচুর চালায় এবং সাকিবকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সাকিব নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বজনরা।
এ ঘটনায় সাকিবের বাবা সিরাজুল ইসলাম মাধবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগের পরও সাকিবের কোনো সন্ধান না মেলায় রোববার রাতে সোয়াবই গ্রামে স্থানীয়দের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক থেকে পরদিন রাজেন্দ্রপুরে গিয়ে সাকিবকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী রাজেন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে সাকিবের খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বসতঘরের একটি অংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ঘরটির বেশ কিছু অংশ পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খবর পেয়ে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ি ও মাধবপুর থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোয়াবই গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মো. মকলেছ মিয়া বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে এবং চলবে। আমরা মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়েছিলাম। অন্যদিকে কিছু লোক সাকিবকে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে রাজেন্দ্রপুরে যায়। তাকে না পেয়ে তারা মাহফুজ মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।”
প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সাকিব অতীতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে সে মাছের ব্যবসা করছে।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহফুজ মিয়া। তিনি বলেন, সাকিবের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার পরিবার কিছুই জানে না। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। বিনা কারণে তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।
কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, “নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “নিখোঁজের অভিযোগ এবং অগ্নিসংযোগ—দুই ঘটনাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে দেওয়া হবে না।”
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ সাকিবের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাদ্বয়ের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরওপড়ুন…….লাখাই সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন।