
এনামুল হক আলম, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি
জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি এখনো ঘোষণা হয়নি। নির্বাচন কমিশন এখনো সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেনি। তবুও দেশের অন্যতম আলোচিত আসন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) তে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনী দিনক্ষণ ঘোষণা না হতেই এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত, চায়ের টেবিল থেকে সামাজিক অনুষ্ঠান—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু “কে হচ্ছেন আগামী প্রার্থী?”
মৌলভীবাজার-২ আসনে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই শরিক দলকে মনোনয়ন দিয়েছে।
২০০৮: মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির নবাব আলী আব্বাস খান এমপি নির্বাচিত।
২০১৪: একদলীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মো. আব্দুল মতিন।
২০১৮: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।
২০২৪: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর অধিকাংশ আওয়ামী নেতা পালিয়ে গেলে, বাকিরা কারাগারে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের সবধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এর ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত।
বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা না করলেও জোটগতভাবে আসনটি ছেড়ে দিতে পারে এমন সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।
জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর গ্রুপ) দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির আন্দোলনে শরিক। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক তিনবারের এমপি নবাব আলী আব্বাস খান সক্রিয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাকে বিএনপি জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিএনপির আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এডভোকেট আবেদ রাজাও প্রার্থীতায় আগ্রহী। তবে স্থানীয়ভাবে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ড. সাইফুল আলম চৌধুরী ও শওকতুল ইসলাম শকু।
শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুরমান আলীও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছেন।
আরওপড়ুন . ‘করোনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি সতর্কতা
জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলীকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান এর সাম্প্রতিক কুলাউড়া সফর নির্বাচনী জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।
মাওলানা কাজী ফজলুল হক খান শাহেদ (আঞ্জুমানে আল ইসলাহ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান) একজন সম্ভাব্য প্রার্থী।
এছাড়া কুলাউড়া আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে:
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
গণ অধিকার পরিষদ
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস,
সিপিবি, বাংলাদেশ জাসদ, এবং অন্যান্য কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দল।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, দলীয় নিষেধাজ্ঞা, এবং জোটগত সমীকরণের জটিলতায় কুলাউড়া আসন যেন এক রকম রাজনৈতিক মরুভূমিতে রূপ নিচ্ছে যেখানে প্রত্যেকে নিজের ভাগ খুঁজছে। আগামী নির্বাচনে কারা প্রার্থী হবেন, কোন দল আসন ছাড়বে, আর জনগণ কাকে নির্বাচিত করবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে যা নিশ্চিত, কুলাউড়া এবারও জাতীয় রাজনীতির অন্যতম হটস্পট হতে যাচ্ছে।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.