
নীলফামারির ডিমলায় ভারতীয় বন্য শুকরের তাণ্ডবে কৃষকের শত শত একর জমির ফসল নষ্ট
মোঃ বাদশা প্রামানিক নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
ভারতীয় বন্য শুকরের তান্ডবে অতিষ্ঠ নীলফামারীর সীমান্তবর্তী কৃষকেরা।এসব বন্য শুকর নষ্ট করছে শত শত একর জমির ফসল। কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না এদের।
নীলফামারীে ডিমলা উপজেলার পূর্ব সাতনাই ইউনিয়নের ঝাড় সিংর্ঘেসড় এলাকায় শতশত একর জমির ফসল নষ্ট করেছে ভারতীয় বন্য শুকর। সীমান্তের ওপারে বন থেকে এসে এসব শুকর ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এলাকাবাসীরা দিনে রাতে পাহারা দিয়েও ঠেকাতে পাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ একাধিক বার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তেমন ফল পাওয়া যায়নি। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে ওই এলাকার কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন,এই সীমান্তে ভারতের যে বোন আছে, সেখান থেকে বন্য শুকরা আমাদের ধান, গম, আলু, ভুট্টা সরিষা ও মরিছ ইত্যাদি ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিজেপি ও ভারতীয় বিসিএফ-কেও বলে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। শুকরেন দল গুলো যখন এসে ফসল নষ্ট করে আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদেরও আক্রমণ করে বসে। এ কারণে দুই একজন তাদের সামনে যাওয়াটা বিপদজনক। এই বিষয়ে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
ওই এলাকার আরেক কৃষক জাকির হোসেন বলেন, এ এলাকার তিন চারশ একর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসল নষ্ট করেছে এসব বন্য শুকর। তারা যখন আসে দলবেঁধে আসে।আমারে তিন চার বিঘা জমির ফসল নষ্ট করেছে। রাতদিন বিভিন্নভাবে পাহারা দিয়েও এদের হাত থেকে ফসলকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। আমরা বাধা দেওয়ার জন্য সামনে গেলে আমাদেরকে ধাওযা করে। ভয়ে কেউ সামনে যেতে পারেনা। বর্তমানে ভুট্টার গাছ বড় হওয়ায় তাদের উৎপাত খুব বেশি বেড়ে গেছে। এদের উৎপদ থেকে কিভাবে ফসলকে রক্ষা করা যায়, আমরা ভেবে পাচ্ছি না।
এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি সূত্র জানিয়েছে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা এ নিয়ে কোন হস্তক্ষেপ করতে পারছে না। তবে কৃষকরা চাচ্ছে এ সমস্যা দ্রুত সমাধান।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাসান আল বান্না বলেন, প্রাণীহত্যা আইন সিদ্ধ নয়, ভাই তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। তাছাড়া দু দেশের সীমান্তের ব্যাপার এজন্য আমি নিজের এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বিজেপি ও ভারতীয় বি সি এফ এর সাথে কৃষকদের সাহায্য করার জন্য কথা বলি। তারা সাহায্য করার সম্মতি দিয়েছে। তাছাড়া কৃষকদেরকে দলীয়ভাবে পাহারা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করি। জীব হত্যা না করে ওই সকল বন্যপ্রাণীকে কিভাবে তাড়িয়ে দেয়া যায় সে বিষয়ে কৃষকদের সাথে পরামর্শ করি। আশা করি একটি সমাধানের পথ বের হবে।
ভারতীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সমস্যার সমাধানসহ কৃষকরা যাতে ক্ষতি সম্মুখীন না হয় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া। তিনি আরো বলেন, যেহেতু পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সীমান্ত এলাকায় এসে আমাদের কৃষকের এসব ফসলগুলো নষ্ট করতেছে। ওখানকার যে স্থানীয় আমলা রয়েছে তাদের সাথে বসে আলোচনা করে কিভাবে সমাধান করা যায় সেই প্রক্রিয়া আমরা যাব।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.