
নিজস্ব প্রতিবেদক :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঘিলাতুলী গ্রামের হেমন্তী রবি দাস নিখোঁজ হওয়ার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। এ দীর্ঘ অপেক্ষার যন্ত্রণা সইতে না পেরে মা–বাবা মৃত্যুবরণ করলেও একমাত্র ভাই রঙ্গু রবি দাস আশা হারাননি। বোনকে ফিরে পাওয়ার স্বপ্নই তাকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে।
২০১২ সালে হেমন্তী নিখোঁজ হওয়ার দুই বছরের মাথায় শোকে মারা যান মা। আরও তিন বছর পর বোনকে হারানোর বেদনা সহ্য করতে না পেরে মারা যান বাবা। পরিবারে শেষ আলোটুকুও নিভে যাওয়ার পর একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রঙ্গু।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হেমন্তীর খোঁজে গ্রাম থেকে গ্রাম, থানায় থানায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন রঙ্গু। শত কষ্ট, মানসিক ভেঙে পড়া অবস্থা—কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। এখনো বিশ্বাস করেন, তার বোন জীবিত আছে এবং একদিন ফিরে আসবে।
রঙ্গু রবি দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার মা-বাবা বোনের অপেক্ষায় পৃথিবী ছেড়ে গেল। আমি আজও খুঁজি। মনে হয়, কোথাও না কোথাও বেঁচে আছে আমার হেমন্তী… একদিন হয়তো ফিরে আসবে।”
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে স্থানীয়রা নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঘটনাটি আজও অন্ধকারে রয়ে গেছে; প্রশাসন উদ্যোগ নিলে রঙ্গুর মানসিক যন্ত্রণা অনেকটাই লাঘব হবে।
সম্প্রতি রঙ্গু আইনি সহায়তার বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অভিযোগ অনুযায়ী, নরসিংদীর রায়পুরার মেহেরনগর গ্রামের এক প্রতারক সফিকুল ইসলাম অপ্রাপ্তবয়স্ক হেমন্তীকে প্রলোভন দেখিয়ে হেনস্থা করেন এবং পরে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন। এ তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
হেমন্তীর নিখোঁজ হওয়া এখনো রহস্যাবৃত। তবুও রঙ্গু রবি দাস দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন—একদিন তার বোন ফিরে আসবে এবং শেষ হবে দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষা।
রঙ্গুর দাবি,
সরকার যেন আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করে নরসিংদী থেকে তার বোনকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
Subscribe to get the latest posts sent to your email.