1. salmankoeas@gmail.com : admin :
মাধবপুরে অবৈধ স’মিল ৪৭টি, বৈধ মাত্র ১১টি — হুমকিতে বন ও পরিবেশ - দৈনিক ক্রাইমসিন
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
​নীলফামারীতে সাইবার সেলের বিশেষ উদ্যোগ: ২৮টি হারানো মোবাইল উদ্ধার করে মালিকের হাতে হস্তান্তর মাধবপুরে ১১৯ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তায় ৩ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বসানো হয়েছে আইপি ক্যামেরা রকেট লঞ্চার হাতে ছাত্রলীগ নেতার ছবি ভাইরাল মাঠপর্যায়ে কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু, ট্যাব বিতরণ :ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে রাজনৈতিক প্রভাব নেই- এমপি মোশারফ হোসেন লাখাইয়ে আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবসে র্যালি ও আলোচনা সভা। কাজিপুরের চরাঞ্চলের দুই ইউনিয়ন পরিদর্শনে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ডিমলার বালাপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন গোলাম রব্বানী প্রধান নন্দীগ্রামে ঘুমহীন প্রহরী, জনতার নিরাপত্তার ভ্যানগার্ড – আব্দুর রউফ রুবেল নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসককে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সচালক আটক মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ, মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতির প্রতিবাদ

মাধবপুরে অবৈধ স’মিল ৪৭টি, বৈধ মাত্র ১১টি — হুমকিতে বন ও পরিবেশ

মাধবপুর (হবিগঞ্জ):
  • Update Time : সোমবার, ১৯ মে, ২০২৫
  • ৩৯০ Time View

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
মাধবপুর উপজেলায় দিনে দিনে বাড়ছে অবৈধ স’মিলের সংখ্যা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে উপজেলাটিতে বৈধ স’মিল রয়েছে মাত্র ১১টি, যেখানে অবৈধভাবে চালু রয়েছে ৪৭টি স’মিল। অবৈধ স’মিলের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স’মিল বন ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পরিচালিত এসব স’মিলে প্রতিদিন গোপনে কাটা হচ্ছে সরকারি বনাঞ্চলের শত শত গাছ, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ স’মিল রাতের আঁধারে বন থেকে গোপনে গাছ এনে কাঠে রূপান্তর করছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই স’মিলগুলো চলছে, অথচ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।


একজন এলাকাবাসী বলেন, “যেখানে বৈধ মিল ১১টা, সেখানে অবৈধ ৪৭টা— এটা কীভাবে সম্ভব? এটা বোঝায় প্রশাসনের ব্যর্থতা কিংবা মদত।”

পরিবেশের ওপর প্রভাব

বনাঞ্চলের এই লাগাতার উজাড়ে মাধবপুরে দেখা দিচ্ছে পরিবেশগত বিপর্যয়ের লক্ষণ। দিন দিন কমে যাচ্ছে গাছপালা, বাড়ছে উষ্ণতা, কমছে বৃষ্টিপাত এবং হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। মাটি হচ্ছে অনুর্বর, হুমকিতে পড়ছে কৃষিও।

প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও মূলত নামমাত্র কিছু জরিমানা ছাড়া বড় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা এসব অবৈধ স’মিলের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত। অভিযানের সময় আগে থেকেই খবর পেয়ে স’মিল বন্ধ করে দেওয়া হয় বা কাঠ সরিয়ে ফেলা হয়, ফলে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রশাসন।

দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি

  • অবৈধ স’মিলগুলোর তালিকা প্রকাশ করে তা বন্ধে কঠোর অভিযান চালানো

  • স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের সমন্বয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন

  • পরিবেশ রক্ষা ও পুনঃবনায়ন কর্মসূচির সম্প্রসারণ

  • গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করা

রঘুনন্দন রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন,
“আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। আমাদের তথ্য অনুযায়ী, বৈধ স’মিল রয়েছে ১১টি এবং অবৈধ প্রায় ৪৭টি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। ইতোমধ্যে এসিল্যান্ড স্যারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে, খুব শিগগিরই যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

পরিবেশবিদ ড.আবিদ মালিকের মতে, লাগাতার বন উজাড়ের ফলে এলাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়া, মাটি ক্ষয়, এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মতো বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, নাগরিকদেরও। মাধবপুরের বন উজাড় হলে ক্ষতির শিকার হবে পুরো দেশ। এখনই যদি অবৈধ স’মিল নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, ভবিষ্যতে এই এলাকার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়তো অসম্ভব হয়ে উঠবে।

তবে প্রশাসন বলছে, অবৈধ স’মিল চিহ্নিত করে খুব শিগগিরই অভিযান চালানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2023 দৈনিক ক্রাইমসিন
Theme Customized BY ITPolly.Com
error: Content is protected !!