
মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে মোশারফ আলী (১৭) নামে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে মারপিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হবিবপুর গ্রামের মাজু মিয়ার বাড়ির সামনে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যুবক আজমাইন আদিল (২০) মোশারফের নিকট ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। টাকা না দিলে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না এবং শারীরিক ক্ষতির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার দিন বিকেলে আদিলসহ আরও কয়েকজন মিলে মোশারফকে লাথি-ঘুষি মেরে ফেলে দেয় এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা চালায়। এমনকি তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা মোছাঃ শাইলি জাহান বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মোশারফ মিয়া হরিপ্রসাদপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ।
প্রত্যক্ষদর্শী মাজু মিয়া জানান, মোশারফ তার বাড়িতে ইন্টারনেটের কাজ করছিলেন। এসময় মোটরসাইকেলে এসে আজমাইন আদিল বলে ওঠেন— “মাদারচোদকে ধর।” এরপর তিনি মারধর করে মাটিতে ফেলে গলায় চাপ দিয়ে মাটিতে ফেলে এলোপাতারি মারফিট করেন করেন। পরে মোটরসাইকেলে তুলে নিতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দিলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় বহরা ইউনিয়নের আফজলপুর গ্রামের আলাউদ্দীন মিয়ার ছেলে আজমাইন আদিল (২০) এবং অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
আহত মোশারফকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
বনতলা পুলিশ ফাঁড়ির মামলার তদন্তকারী অফিসার এএসআই মামুন বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযুক্ত আজমাইন আদিলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, প্রধান আসামি আজমাইন আদিলের পিতা আলাউদ্দীন মিয়া মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বহরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাশকতা মামলার পলাতক আসামি বলেও জানা গেছে।
আরওপড়ুন…ফুলবাড়ীতে পৌরসভা প্রশাসনের উদ্যোগে পুজা মন্ডপে অনুদান বিতরন
Subscribe to get the latest posts sent to your email.