
মাধবপুর সংবাদদাতা ::
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে জনবল সংকট। ১৮টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৯ টিই শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। ফলে ভূমিসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদ—সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগো ও সার্ভেয়ার—বর্তমানে শূন্য। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুল ইসলাম যোগদানের মাত্র ২০ দিনের মাথায় বদলি হন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদি হাসান নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে উপজেলা প্রশাসক, পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি’র) দায়িত্ব পালন করছেন। কানুনগো সাইফুদ্দিন আহমেদ ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। আর সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম প্রায় চার মাস আগে পদোন্নতি পেয়ে কমলগঞ্জ ভূমি অফিসে যোগ দেওয়ায় এ পদটিও শূন্য হয়। বর্তমানে বাহুবল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জোনায়েদ আহমেদ হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অধিগ্রহণ শাখায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সপ্তাহে এক দিন মাধবপুর ভূমি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া চেইনম্যান, জারিকারক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও নাজির কাম ক্যাশিয়ারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদও শূন্য রয়েছে। মাধবপুর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। এগুলো হলো—মনতলা, মাধবপুর সদর, আদাঐর, নোয়াপাড়া ও কালিকাপুর। এসব অফিসেও রয়েছে জনবল সংকট।
মনতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন চারজন। এ অফিসের আওতায় রয়েছে ৯৯টি মৌজা। ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, এলাকায় বালুমহাল থাকায় অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার দায়িত্বও রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে কর্মরতদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন, এলাকায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠায় ভূমিসংক্রান্ত কাজ বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও ছুটি নেওয়া সম্ভব হয় না। এদিকে মাধবপুর সদর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুটি করে পদ শূন্য রয়েছে। আদাঐর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বর্তমানে একজন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও একজন এমএলএসএস কর্মরত আছেন। জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই কর্মকর্তারা রাত পর্যন্ত কাজ করে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিগগিরই এ সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন শূন্য থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণ করা না হলে ই-নামজারিসহ ডিজিটাল ভূমিসেবার কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে। এতে বাড়বে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি। তাই জনস্বার্থে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।