
আজমিরীগঞ্জ সংবাদদাতা :
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ এলাকায় কাটা নদীর পাড়ে পুরোনো ব্যাটারি আগুনে পুড়িয়ে সীসা গলানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২০ দিন ধরে প্রকাশ্যে সেখানে এ কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে কয়েক শতাধিক পুরোনো ব্যাটারি গলানো হয়েছে বলে জানা গেছে। রাত আটটার পর থেকে শুরু হয় সীসা গলানো যা সারা রাত চলে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় পুরোনো ব্যাটারি পোড়ানোর ঘটনায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যাটারি পোড়ানোর সময় ধোঁয়া ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য আশপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে নদীর পানি, মাটি ও স্থানীয় পরিবেশ দূষিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর হলো রাস্তা পাশে হওয়ায় রাতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিতে থাকে। আগুনের ফুলকি বাতাসে রাস্তায় এসে পড়ে। যা দূর্ঘটনার বড় একটি কারণ হতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই খোলা জায়গায় প্রতিদিন আগুন দিয়ে পুরোনো ব্যাটারি পোড়ানো হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। নদীর কাছাকাছি এমন কার্যক্রম চলায় বর্জ্য ও পোড়ানোর অবশিষ্টাংশ পানিতে বা মাটিতে মিশে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মারাজ মিয়া চৌধুরী বলেন, বানিয়াচং উপজেলা ও ঢাকার কয়েকজন মিলে সেখানে পুরোনো ব্যাটারি নিয়ে আসছেন। তিনি তাদের আগুনে ব্যাটারি না পোড়ানোর জন্য নিষেধ করেছেন। বানিয়াচংয়ের কয়েকজন ব্যক্তি এই কাজে জড়ীত রয়েছে।
এই বিষয়ে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা গলানোর কার্যক্রমের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শ্রী হরিপদ চন্দ্র দাস।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় আজমিরীগঞ্জ থানার কাছ থেকে তিনি একটি প্রতিবেদন পেয়েছি তবে ঘটনাস্থল প্রশাসনিকভাবে বানিয়াচং উপজেলার এলাকায় পড়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি বানিয়াচং থানার মধ্যে। আমাদের থানার সীমানা থেকে প্রায় কোয়ার্টার মাইল পূর্বদিকে ঘটনাস্থল। বিষয়টি বানিয়াচং এলাকার মধ্যে পড়েছে। এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে জানিয়েছি।’
আরওপড়ুন……. মাধবপুরে সৎ মায়ের কাছে শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু মায়ের পরিবারের হত্যা দাবি।