
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানী বনিক ফাজিল মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে নানা অবকাঠামোগত ও জনবল সংকটে জর্জরিত। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষের সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব, পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও নৈশপ্রহরীর সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে কামারজানী এলাকায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে নদীভাঙনে প্রতিষ্ঠানটির জায়গা-জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০০০ সালে এটি স্থানান্তর করে ঝাউবাড়ী বাজারের ২ নম্বর মালীবাড়ী এলাকায় স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত চাহিদার তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুবিধার্থে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হলেও বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণকাজ থমকে আছে। ফলে বিদ্যমান শ্রেণিকক্ষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও বসার ব্যবস্থায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মাদ্রাসাটিতে নারী শিক্ষক থাকলেও তাদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনায় পর্যাপ্ত প্রাচীর ও পর্দার ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও নৈশপ্রহরীর ঘাটতির কারণে দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রমেও সমস্যা হচ্ছে।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। প্রয়োজনের সময় বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করে পান করতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এছাড়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও জনবল সংকট রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে পাঠদানের পরিবেশও স্বাভাবিক থাকছে না।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ ফয়জার রহমান বলেন, তিনি সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠানের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিলাম। বর্তমানে সরকার মাদ্রাসার জন্য নতুন ভবনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় শ্রেণিকক্ষ সংকট প্রকট হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের বসার ও পাঠদানের ক্ষেত্রে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।’
বিশুদ্ধ পানির বিষয়ে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় একটি টিউবওয়েল ছিল, সেটি চুরি হয়ে গেছে। নতুন করে টিউবওয়েল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরাও মাদ্রাসাটির সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাই নির্মাণাধীন ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করা, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগ এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
আরওপড়ুন……. স্থানীয় নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ না দেওয়ার ঘোষণা, বাস্তবায়ন নিয়ে থাকছে প্রশ্ন