
মহিউদ্দিন আহমেদ রিপন লাখাই থেকে
‘সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হবিগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে এক পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৭ মে) বিকাল ৪টায় শহরের ফুড ভিলেজ রেস্টুরেন্টে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মিজবাহুল বারী লিটন-এর সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সমসাময়িক রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় প্রধান আলোচক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: সুজনের সমন্বয়কারী, তুহিন আফসারীর
সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী, নাজমুল হক মিনাল
বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি, এ এস এম মহসিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক, মোতালিব তালুকদার দুলাল, মীর গোলাম রাব্বানী, কমিশনার শামসু মিয়া, আব্দুর রফিক, সিরাজুল ইসলাম, লাখাই উপজেলা সভাপতি বাহার উদ্দিন, সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ রিপন, বানিয়াচং উপজেলা সভাপতি দেওয়ান শোয়েব রাজা, সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন, সম্পাদক জসিম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ সোহাগ মিয়া, শেখ আব্দুল কাদির কাজল, মুজিবুর রহমান খান, আব্দুল হান্নান, রানা নাসির উদ্দিন, নায়েব হোসেন, আজিজুল রহমান মান্না, পুলক রায়, সাইদুর রহমান, মহসিন আহমেদ, সদর সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, সাংগঠনিক আমিনুল ইসলাম সুমনসহ সুজন বন্ধুর সদস্য নুর আলম, আব্দুল বারিক অন্ত ও পিয়াসী দেব রায়।
সভায় বক্তারা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন: জুলাই সনদের বাস্তবায়নে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি হয়েছিল এবং গণভোটের রায়ের মাধ্যমে যা বাস্তবায়নের কথা ছিল, তার প্রতিফলন এখনো দৃশ্যমান নয়। এই মন্থর গতিতে তারা মর্মাহত,
অতিরিক্ত পানির কারণে কৃষকেরা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে অন্যরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষকদের মাঝে সুবিধা বণ্টনের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
পরিবেশ দূষণে বিষয়ে বক্তারা বলেন হবিগঞ্জের প্রাণ সুতাং নদীর ভয়াবহ দূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে সভায় বেশ কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়:
কমিটি পুনর্গঠন আগামী এক মাসের মধ্যে জেলার সকল উপজেলা কমিটি গঠন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন সভাপতি। জেলা কমিটির কার্যকারিতা বাড়াতে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে উপজেলা ও কলেজ পর্যায়ে “সুজন বন্ধু” কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন বলেন, “সুশাসন ও গণতন্ত্রের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের প্রতিটি কর্মীকে তৃণমূল পর্যায়ে গিয়ে মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শামিল হতে হবে।”
আরওপড়ুন… কাজিপুরে জু’য়ার আসর থেকে আট’ক দুই
Subscribe to get the latest posts sent to your email.